দ্বিতীয় সিঙ্গুর হতে দেব না, বাম তরুণদের ডাকে ভাসল অশোকনগর

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দ্বিতীয় সিঙ্গুর হতে দেব না, কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ – এই স্লোগানকে সামনে রেখেই ২০০৬ সালের বিধানসভা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিপুল জনসমর্থন পেয়েছিল বামেরা। তারপর সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম। তারওপরে ২০২১ এ বাম সরকারের পতন। জমি আন্দোলনকে মূলধন করে ক্ষমতায় মমতার সরকার। এইবার উত্তর চব্বিশ পরগণার অশোকনগরে ফের শোনা গেল সেই পুরোনো স্লোগান।

আরও পড়ুনঃ স্বপ্নের নতুন সংসদের ভিত্তি স্থাপন করা হলেও এখনিই কাজ শুরু স্থগিত রাখার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

সাথে ‘অশোকনগরকে দ্বিতীয় সিঙ্গুর বানানোর চক্রান্তের প্রতিবাদ। সৌজন্যে সিপিএমের ছাত্র যুব সংগঠন। কিন্তু কেন হঠাৎ এই পুরোনো স্লোগান? অশোকনগরের বাইগাছি মৌজায় তেল ও গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে ওএনজিসি। বাণিজ্যিক ভাবে তা উত্তোলনের তোড়জোড় চলছে। গত ছ’বছর ধরে পরীক্ষামূলক ভাবে ৪ একর জমিতে কাজ চলার পরে এ বার প্রয়োজন আরও ১২ একর জমি।

বেশিরভাগই সরকারি খাসজমি। কিছু চাষবাস হয়। চাষিরা জানিয়েছেন, বাইগাছি মৌজা ছাড়াও ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ সংলগ্ন হিজলিয়া মৌজাতেও জমির মাপজোক ও চিহ্নিতকরণের কাজ করছেন। এই পটভূমিকে কৃষককে সাথে নিয়েই শিল্পের দাবীতে মাঠে নামল বামেরা। প্রসঙ্গত, যে জমির উপর ওএনজিসি প্রকল্প করছেন সেখানে যারা চাষ করতেন তারা এখনও নানা জটিলতার কারণে ক্ষতিপুরণ পাননি। হয়েছে মামলাও৷ কিছুদিন আগেই কৃষকদের একাংশকে নিয়ে রাস্তা অবরোধে সামিল হন স্থানীয় তৃনমূল নেতা সমীর দত্ত। আরেক নেতা, পৌরপ্রশাসক প্রবোধ সরকার অবশ্য তাকে সমীর বাবুর ব্যক্তিগত অবস্থান বলে দায় এড়ান।

তারপরই চাষিদের কাছে ছুটে যান স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক সত্যসেবী করের নেতৃত্বে তাদের বোঝানো হয় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সকলের লাভ। ক্ষতিপূরনের বিষয়টি নিয়ে চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েও এখনই অবরোধের রাজনীতিতে গিয়ে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। তাদের দাবী রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন ওএনজিসির সাথে যথাযথ আলোচনা করছেন না বলেই আটকে আছে ক্ষতিপূরণ।

দ্বিতীয় সিঙ্গুর হতে দেব না, চাষিদের একটা বড় অংশও এই বক্তব্যের সাথে সহমত হয়। এরপর গতকাল এসএফআই ডিওয়াইএফআই এর নেতৃত্বে স্থানীয় গোলবাজার থেকে বাইগাছি ওএনজিসি প্রকল্প স্থান অবধি বিশাল মিছিলে পা মেলায় সহস্রাধিক স্থানীয় যুবক। তাদের দাবী – চাষাবাদরত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা করে অশোকনগরে দীর্ঘস্থায়ী ওএনজিসি প্রকল্প করতে হবে৷ কোনোভাবেই এই প্রকল্পের বেসরকারিকরণ করা চলবে না। ওএনজিসির এই প্রকল্প এবং এর সাথে অনুসারী শিল্প গড়ে তুলে এলাকার ছাত্র যুবদের জন্য যোগ্যতা ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চাকরি দিতে হবে।

অশান্তিতে ইন্ধন দিয়ে ঐ জমিতে চাষাবাদরত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপুরণের ব্যাপারে ওএনজিসির সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করুন রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন। রাজ্যের বাম যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জির নেতৃত্বে এই মিছিলের পর সভা হয় প্রকল্পস্থলে। সেখান থেকে এই দাবীগুলি চিঠির আকারে মেইলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস মন্ত্রীর কাছে পাঠায় বাম ছাত্রযুবরা।

সেখানে তারা বলেন, সিঙ্গুরকে শ্মসান বানিয়ে বাংলার সাথে বেইমানি করেছে তৃনমূল। অশোকনগরকে দ্বিতীয় সিঙ্গুর হতে দেওয়া যাবে না। কৃষকের ন্যায্য ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা করে এখানেই শিল্প চাই ও ব্যাপক কর্মসংস্থান চাই। স্থানীয় সূত্রে খবর এদিনের মিছিলে এক ঝাঁক তরতাজা যুবক ও বড় অংশের নতুন মুখের উপস্থিতি ছিল। ছাত্র যুবদের এত বড় আর প্রাণবন্ত মিছিল শেষ কবে দেখেছেন এই এলাকার মানুষ তা মনে করতে পারছেন না অনেকেই। কৃষি ও শিল্পের মধ্যে ভারসাম্যের এই স্লোগানকে সামনে রেখে ও রাজ্যের এই সময়ের অন্যতম জ্বলন্ত দাবী চাকরিকে হাতিয়ার করে অশোকনগরে ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে বামেরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত