কাউকে ছেড়ে কথা বলব না, ভোট মিটলেই ফের শীতলকুচি আসার আশ্বাস দিয়ে এলেন মমতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কাউকে ছেড়ে কথা বলব না, দোষীরা শাস্তি পাবেই, নিষেধাজ্ঞা শেষে শীতলকুচি পৌঁছেই চিরাচরিত ভাবে হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের ৭২ ঘন্টার নিষেধাজ্ঞা পেরোতেই আজ মাথাভাঙ্গায় পৌঁছেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দেখা করেছেন আহত এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে। আশ্বাস দিয়েছেন প্রকৃত তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার।

আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুকে সারা বাংলার বাঘ বলে সম্বোধন কনিষ্ক পান্ডার।

ভোট চতুর্থীতে রক্তগঙ্গা বয়েছে শীতলকুচিতে। দিনের প্রথম ভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫ জন, এখনো হাসপাতলে আছেন আহতরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় হয়েছে রীতিমত। তৃণমূল বিজেপি উভয় দলই দাবী করেছে বিপরীত দলের পরিকল্পনায় ঘটেছে এই ঘটনা। জওয়ানরা যুক্তি দিচ্ছেন, আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালিয়েছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন গুলি বুক লক্ষ্য করে কেনো, পরিস্থিতি সামালে পা লক্ষ্য করে কেনো চলেনি?

ঘটনার পরেই উত্তরবঙ্গে উড়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কমিশনের নির্দেশে যেতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৭২ ঘন্টা কোচবিহারে প্রবেশে বাধা ছিলো রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীদের। সেই মতো আজ সকালেই পৌঁছে গিয়ে কথা বললেন নিহত এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে। মৃত দলীয় কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য মাথাভাঙা হাসপাতালের পাশের মাঠেই তৈরি করা হয়েছে শহিদ মঞ্চ।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে নিহত চারজনের পরিবারের সদস্যরা।উপস্থিত ছিলেন আনন্দও বর্মনের মামা এবং দাদু। প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে মাথাভাঙ্গাতেও ফুটে উঠেছে মমতার পাশের বাড়ির মেয়ের ইমেজ। প্রত্যেকের সঙ্গে মিশে গিয়ে নিয়েছেন খোঁজ খবর। নিহত মনিরুল হকের স্ত্রী-র কোল থেকে তাঁদের সদ্যোজাত সন্তানকেও কোলে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। মমতার সঙ্গে সাক্ষাতে রাজী হননি মৃত আনন্দ বর্মনের বাবা, মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন আনন্দ বর্মণের মামা এববং দাদুর সঙ্গে।

মমতা আগেই বলেছিলেন ঘটনার প্রমাণ লোপের জন্যই ৭২ ঘন্টা তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি শীতলকুচিতে। এদিনও আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, ‘আমি আরও আগে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমি আসতে পারেনি।’ তার পরেই শহিদ মঞ্চ থেকে চিরাচরিত ভঙ্গীতে হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন ‘ক্ষমতায় এলে নিজে এই ঘটনার তদন্ত করাব। যাঁরা প্রকৃত দোষী তাদের শাস্তি হবে।’ পাশাপাশি তৃণমূল ক্ষমতায় এলে পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

ঘটনার পর দিনই সাহায্যের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ভোট আবহে সরাসরি এই কাজ করা যায়না, তাই নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ না করে তিনি জানিয়েছিলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের পর সেই  অর্থ দিয়ে সাহায্য করবেন তিনি। তিনি জানিয়েছিলেন মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ এবং আহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।

নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার আগে এবং পরে তিনি বারবার বলেন মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করেননা তিনি। বারবার শোক প্রকাশ করেছেন ৫ জনের জন্য। সভা মঞ্চে উঠে জানিয়েছিলেন ‘‘আজ কোনও সভা ছিল না এখানে। আমি শুধু নিহত ছেলেগুলোর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম।” ফেরার সময় বলে আসেন, কাউকে ছেড়ে কথা বলবেন না তিনি। শহাস্তি পাবেন সকলেই। আর এলাকাবাসীকে সতর্ক করে এসেছেন, নির্বাচন কালে প্ররোচনায় পা না দিয়ে সতর্ক থাকার জন্য।

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন