আবগারি মামলায় ধৃত কেজরিওয়ালের অন্তর্বর্তী জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি ছিল শুক্রবার। এই শুনানিতেই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই জামিনের পরও জেলেই থাকতে হবে কেজরিওয়ালকে। অন্য একটি মামলায় সিবিআইয়ের হাতেও গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। জানা গেছে আগামী ১৭ জুলাই সেই মামলারও শুনানি রয়েছে। তবে তার আগে মুক্তি পাচ্ছেন না আম আদমি পার্টির প্রধান।
উল্লেখ্য, ইডির গ্রেফতারি বেআইনি বলে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন কেজরি। কিন্তু হাই কোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে ইডির গ্রেফতারি কোনো বেআইনি নয়। এরপরই উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কেজরিওয়াল। শুক্রবার শুনানি তে সেই মামলার রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কেজরির আইনজীবী বিবেক জৈনের অভিযোগ ও যুক্তির ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে।

তবে এই জামিনের পরেও আপাতত তিহারেই কাটাতে হবে কেজরিওয়ালকে। কারণ গত ২৫ জুন তিহাড়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরে জেলবন্দি কেজরিকে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের অনুমোদনে হেফাজতে নেয় এই আবগারি মামলায় আর এক তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই। ঘটনাচক্রে, সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে শুক্রবার। পরে সিবিআই হেফাজতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে আবেদন জানানো হলেও তা খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপরই দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আম আদমি পার্টির প্রধান।
কেজরির জামিন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট, তবে আপাতত ঠিকানা তিহাড়েই

প্রসঙ্গত, গত ২১ মার্চ লোকসভা নির্বাচনের আগেই আবগারি দুর্নীতিতে কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে ইডি। যদিও লোকসভা ভোট চলাকালীন অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এরপর গত ২ জুন ফের তাকে জেলে ফিরতে হয়। তবে লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে কেজরিওয়ালের গ্রেফতারিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল জাতীয় রাজনীতিতে। এই ঘটনায় সরব হয়েছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি লিখেছিলেন যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কেবল বেছে বেছে বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের নিশানা করছে। কিন্তু আদতে যারা সিবিআই ও ইডির তদন্তে অভিযুক্ত তারা বিজেপিতে যোগ দিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



