মেয়াদ শেষের ৫ বছর আগেই ইস্তফা, কারন দর্শাতে অভিষেককে চিঠি অর্পিতার

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মেয়াদ শেষের ৫ বছর আগেই আচমকা নিজের সাংসদ পদ ত্যাগ করেছেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। তৃণমূলের রাজ্য সভার সাংসদ হিসেবে তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২৬ পর্যন্ত। কিন্তু তাঁর আগেই দলের বহুদিনের একনিষ্ঠ কর্মীর সাংসদ পদ ত্যাগ করায় শুরু হয়েছিল জল্পনা।

আরও পড়ুনঃ CBI-এর প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেন সুফিয়ান, মমতার সৈনিকের অভিযোগ ষড়যন্ত্রের শিকার তিনিও

রাজনীতির অন্দরে তৈরি হচ্ছিল একাধিক জল্পনা আর গুঞ্জন। এই পরিস্থিতিতে নিজের পদত্যাগের কারণ জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছেন নাট্যকর্মী, সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট। আর সেটা হল বাংলার মানুষের জন্য কাজ করা। এবং তিনি মনে করছে ন দলের সাংসদ পদ থেকে বেরিয়ে এসে  রাজ্যবাসীর জন্য কাজ করা তাঁর পক্ষে সুবিধার হবে।

arpita ghosh 36714

অভিষেককে লেখা চিঠির শুরুতেই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দলের প্রতি। থিয়েটারের মঞ্চ ছেড়ে রাজনীতির ময়দান, সাংসদ হিসেবে এতো বছরের দায়িত্ব সব কিছুতে দলের পাশে থাকা, দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে চিঠির শুরুতেই লিখেছেন,  ‘থিয়েটারে বেশ কয়েক বছর কাজ করার পর সমাজকর্মী হিসেবে এবং তার পর সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে অনেক কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। উপভোগও করেছি। লোকসভার সাংসদ থেকে শুরু করে জেলা সভাপতি, রাজ্যসভার সাংসদ— দল আমাকে অনেক দায়িত্ব দিয়েছে। তার জন্য দলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ ২০১৪ সালে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট লোকসভা থেকে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে জিতেছিলেন অর্পিতা ঘোষ। পরের ভোটে তাঁর হাত ধরে জয় না এলেও সাংসদ পদ পেয়েছিলেন ।

মেয়াদ শেষের বছর ৫ আগেই পদ ছাড়লেন অর্পিতা, মানুষের জন্য কাজ করবেন সাধারণ মানুষ হিসেবেই। 

ed summons trinamool congress candidate arpita ghosh

গতকাল, বুধবার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। সেই নিয়ে যখন রাজনীতির ভেতরেই জোর চর্চা, তখন নিজের কারণ জানিয়েছেন চিঠিতে। দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকারের পাশাপাশি চিঠিতে অভিষেককে জানিয়েছেন ‘কী ভাবে দলের কাজ করব, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট জয়ের পর এই বিষয়টি নিয়ে গভীর চিন্তা ভাবনা করেছি। আমায় যদি বাংলায় দলের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়, সাংসদ পদে না থেকে সেই কাজ করতে আমি বেশি আগ্রহী। আমার লক্ষ্য স্পষ্ট। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই আমি। আমার মনে হয়, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বাংলায় এসে কাজ করতে পারলেই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।’

ওয়াকিবহাল মহলের মতে অর্পিতার পদত্যাগে অসুবিধার সঙ্গে সুবিধাও হয়েছে দলের। এই মূহুর্তে তৃণমূলের লক্ষ্য দেশ জয়। ইতিমধ্স্মমূল।সাংসদ পদে বসিয়ে দিল্লি পাঠানো হয়েছে জহর সরকারকে, ভোট হবে মানসের আসনেও। সুস্মিতা জিতলে তৃণমূলের সাংসদ হবেন তিনি। এবার ফাঁকা হল অর্পিতার আসন। ফের সেই আসনে অভিজ্ঞতা সপন্ন কাউকে পাঠিয়ে দিল্লিতে নয়া রুটম্যাপ বানাবে তৃণমূল। অর্পিতার পদত্যাগের পর আগামি ৫ বছরের জন্য তৃণমূল সেই পদে কাকে পাঠাবে সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর