দলীয় কার্যালয় নাকি কার্যত ‘অস্ত্রাগার’! আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তৃণমূলের পার্টি অফিসে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হল ধারালো অস্ত্র, ছাদজোড়া বোমা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তৃণমূল নেতা রাকেশ আলি। অবশেষে রবিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই আরামবাগে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসছিল। সেই আবহেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হানা দেয় পুলিশ। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বোমা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তের আঁচ পড়তেই গা ঢাকা দেন আরামবাগের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক রাকেশ আলি।


পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই রাকেশ আলির খোঁজে তল্লাশি চলছিল। একাধিক জায়গায় অভিযান চালানোর পর রবিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া ওই পার্টি অফিস থেকেই বেআইনি কার্যকলাপ পরিচালিত হত।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পার্টি অফিসের ভিতর থেকে যেমন ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তেমনই ছাদে মজুত ছিল একাধিক বোমা। ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরে বোম স্কোয়াড গিয়ে উদ্ধার সামগ্রী পরীক্ষা করে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ভোট পরবর্তী অশান্তির আবহ তৈরি করতেই এই মজুত করা হয়েছিল। যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


এদিকে আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, “আরামবাগকে সন্ত্রাসের ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়েছিল। রাকেশ আলি সেই চক্রের অন্যতম মুখ।”
শুধু এই একটি পার্টি অফিস নয়, ভোটের ফল ঘোষণার পর আরামবাগের আরও একটি তৃণমূল কার্যালয় থেকে বাক্সভর্তি বোমা উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় হিংসার ছক কষতেই এই মজুত করা হয়েছিল।
রাকেশ আলির গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-বোমার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, এখন সেদিকেই নজর প্রশাসনের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



