নজরবন্দি ব্যুরোঃ অনুব্রত ব্যস্ত ছিলেন মিটিং-পুজোয়! আড়াই ঘন্টা চক্কর কেটে বহু কষ্টে কেষ্ট লাভ কমিশনের। গতকাল থেকেই নজরবন্দি ছিলেন কেষ্ট! অর্থাৎ বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। ২৯ তারিখে নির্বাচন রয়েছে বীরভূমের ১১টি আসনে কিন্তু তাঁর ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে অনুব্রত মণ্ডল কে নজরবন্দি করেছিল নির্বাচন কমিশন। গতকাল থেকে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরদিন সকাল পর্যন্ত নজরবন্দি করা হয়েছিলো তাঁকে। ২৯শে এপ্রিল ভোট রয়েছে কেষ্টদার গড়ে। কিন্তু সেই ভোট মেটার আগেই গতকাল ২৭শে এপ্রিল CBI ডেকে পাঠিয়েছিল অনুব্রত কে।
তবে দিদির পরামর্শ মত হাজিরা দেননি অনুব্রত। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, বীরভূমে ভোটের সময় যদি অনুব্রত কে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া যায় বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া যায় তাহলে রাজনৈতিক সুবিধা পাবে বিজেপি।গত পরশু মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন , এখন একদম নয়, ভোট শেষ হলে যাবি! মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘বিজেপি এখন সেন্ট্রাল এজেন্সিগুলিকে দিয়ে তৃণমূলের নেতাদের ভয় দেখাতে চাইছে। আমি ওকে বলেছি একদম যাবি না। ভোট মিটলে তারপর যাবি।’


তবে ভোটের আগেই কমিশন-বাহিনীকে একযোগে গোটা সকাল বীরভূম ঘুরিয়েছেন অনুব্রত। সূত্রের খবর, আজ অর্থাৎ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন অনুব্রত। তাঁর পিছনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের গাড়িও যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই রাস্তার মধ্যে অনুব্রতর গাড়ি গতি বাড়িয়ে বেরিয়ে যায় , ঠিক সেই সময়ে রাস্তায় অন্য গাড়ি এসে পড়ায় আটকে যায় কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি। গোটা বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় কোন খোঁজ না পেয়ে একাধিক থানায় খবর দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিলো।
তবে বহু কষ্ট করে, কার্যত গোটা বোলপুর বীরভূম চক্কর কেটে কেষ্ট লাভ করলো কমিশন। দুপুর ২টো নাগাদ অনুব্রতর খোঁজ মিলল তারাপীঠ মন্দিরে। ফের তাঁকে নজরবন্দি করল কমিশন।সকালে অনুব্রত বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরেই বোলপুর চৌরাস্তা থেকেই তাঁকে হারিয়ে ফেলেন কমিশনের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট ও ৮ জন আধা সেনার গাড়ি। এরপর আড়াই ঘণ্টা অনুব্রতকে খুঁজেই চলল কমিশন। অন্যদিকে কমিশন যখন হন্যে হয়ে খুঁজছে অনুব্রতকে, তখন তিনি মিটিং করছিলেন সাঁইথিয়ায় দলীয় অফিসে। এরপর যান তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে। সেখানেই তাঁকে ফের ‘খুঁজে’ পায় কমিশন- বাহিনী।
অনুব্রত ব্যস্ত ছিলেন মিটিং-পুজোয়! আড়াই ঘন্টা চক্কর কেটে বহু কষ্টে কেষ্ট লাভ কমিশনের। এর আগে ২০১৬ এর নির্বাচনের সময় নজরবন্দি করা হয়েছিলো তাঁকে। ২১ এ ফের একি কাহিনি শুনে কেষ্টদা বলেছিলেন, ‘‘নজরবন্দি মানে কী? আমি যেখানেই যাব সেখানেই এক জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে আর কয়েক জন সিআরপিএফ থাকবে। এই তো নজরবন্দি। আমাকে তো গৃহবন্দি করেনি! তিনি আরও বলেছিলেন, ‘‘প্রত্যেক বার করে, এ বারও করেছে। আমি যখন বাড়ি থেকে বেরোব, পার্টি অফিসে যাব, আমার সঙ্গে সঙ্গে আসবে ক্ষতি কী আছে? খেলা কি বন্ধ হয় ? ঘরের ভিতরে চার জনে মিলে খেলা হয় না? খেলব মনে করলেই খেলা হবে।’’ তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে এবারের বোল্পুরের গোলকধাঁধায় কমিশনকে ভোটের আগের দিন খুব ঘুরিয়ে নিয়েছে কেষ্ট দা।










