এক রাতে এলাকা দখল অনুব্রতর, সরল মমতার নেতাদের ছবি, লালমাটিতে খেলা শুরু কেষ্টর

বুধবার ফের একবার সাজো সাজো রব তৃণমূল কার্যালয়ে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হল জেলা কোর কমিটির একাধিক তৃণমূল নেতার ছবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২০২২ সালে গরু পাচার মামলায় তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতারের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, “ও একদিন বেরিয়ে আসবে। ওকে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনব।” মঙ্গলবার কার্যত সেই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলো আপামর রাজ্যবাসী। বীরের সম্মান দিয়ে অনুব্রতকে বরণ করে নিলেন তৃণমূল কর্মীরা। স্লোগান, পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িতে স্বাগত জানানো হল। আর কার্যত নিজের গড়ে ফিরে এক রাতের মধ্যে এলাকার দখল নিলেন কেষ্ট!

২০১৮ সালে বীরভূম জেলা তৃণমূল ভবনের উদ্বোধন করেন অনুব্রত মণ্ডল। প্রতিদিন নিয়ম করে তিনি এখানে বসতেন। তিনিই ছিলেন জেলা সভাপতি। বুধবার ফের একবার সাজো সাজো রব তৃণমূল কার্যালয়ে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হল জেলা কোর কমিটির একাধিক তৃণমূল নেতার ছবি। অনুব্রত জেলে যাবার পর যে কমিটি তৈরি করে দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, আজ বিকেলে বোলপুর দলীয় কার্যালয়ে যেতে পারেন অনুব্রত।

দীর্ঘ দু’বছর পর বাড়ি ফিরে মঙ্গলবার কার্যত আবেগে ভেসে যান অনুব্রত। সর্বক্ষণ তাঁর পাশে ছিলেন মেয়ে সুকন্যা মন্ডল। অনুব্রত নিজে কেঁদে দেন, কাঁদান তৃণমূল কর্মীদের। একবার দরজার বাইরে হাত নাড়েন। ওই অব্দিই। তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়টা হল, একেবারে বেছে বেছে কয়েকজন নেতার সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। অনেককে ফিরে যেতে হল দরজা থেকেই। ঘটনাচক্রে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করলেও কেষ্টর সঙ্গে দেখা করলেন না। হয়তো তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয়ে থাকতে পারে।

মনে করা হচ্ছে, বিপদের দিনে যেসব নেতারা অনুব্রতর পাশে ছিলেন তাঁদের সঙ্গেই আগে দেখা করলেন তিনি। এই তালিকায় রয়েছেন, নলহাটির তৃণমূল বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিংহ, বোলপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ এবং পর্ণার স্বামী তথা জেলা তৃণমূলের অন্যতম নেতা সুদীপ্ত ঘোষ। দেখা করলেন না,রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ এবং সিউড়ির তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অসিত মাল, ময়ুরেশ্বরের বিধায়ক অভিজিৎ রায়, মুরারইয়ের বিধায়ক মোশারফ হোসেনদের সঙ্গে।

অনুব্রত গ্রেফতার হয়ে যাওয়ার পর সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমের সাংগঠনিক দায়িত্ব কিছুদিনের জন্য নিজের কাঁধে রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। যদিও এখন অনুব্রত মুক্ত। আশা করা যায়, তাঁকেই ফের একবার বীরভূমের জেলা সভাপতি পদে নিয়ে আসা হবে। অনুব্রত জেলে যাবার পরেও এই পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি ছিল। কাউকে দেওয়া হয়নি। মমতার অত্যন্ত স্নেহের পাত্র অনুব্রত। যদিও তাঁর অনুপস্থিতিতে দল চালানোর জন্য কিছু নেতাকে ‘ভরসা’ করতে হয়েছিল তৃণমূলনেত্রীকে। এখন অনুব্রত ফেরায় বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসতে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর