শিক্ষকের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে আইনি জটিলতায় জড়ালেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। আদালতের নির্দেশের পর সিউড়ি থানায় তাঁর-সহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগ, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হলেও নিয়োগ হয়নি, ফেরতও মেলেনি অর্থ।
অভিযোগকারী কল্যাণ ঘোষের দাবি, ২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। শুধু তিনি নন, তাঁর বোন এবং আরও কয়েক জন পরিচিতের কাছ থেকেও ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও চাকরি হয়নি।
সোমবার অভিযোগকারীর আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় (Somnath Mukhopadhyay) জানান, ২০১৭ সাল থেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত সিউড়ি আদালত (Suri Court)-এর দ্বারস্থ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলা দায়ের করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের পাশাপাশি জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jibankrishna Saha)-সহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দু’টি জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্তও শুরু হয়েছে। সোমবার আদালতে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিউড়ি থানা।
অভিযোগকারীর দাবি, নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও সেখানে কোথায় পোস্টিং হবে, তা উল্লেখ ছিল না। পরে চাকরি নিশ্চিত করতে আরও টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়নি কারও। অভিযোগ নিয়ে প্রথমে থানায় গেলে অনুব্রত মণ্ডল, জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন সভাপতি রাজা ঘোষের নাম থাকায় পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আদালতের নির্দেশের পর অবশেষে পুলিশ মামলা দায়ের করায় ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন অভিযোগকারী। যদিও এই অভিযোগ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত অনুব্রত মণ্ডলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির উপরেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।