নজরবন্দি ব্যুরোঃ জোড়াফুলে মুকুল এল…মুকুল রায়কে উত্তরীয় পরালেন অভিষেক, পুত্র স্নেহে বুকে জড়িয়ে ধরলেন চানক্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “মুকুল এখানে ফিরে আসার পর শান্তি পেল। ওর শরীর টা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল ওখানে থেকে। কারও পক্ষে বিজেপি করা সম্ভব নয়।” বঙ্গ রাজনীতিতে শুধু আজকের নয় বহু দিনের জল্পনায় ভেসে থাকা এবং আজ তা সম্মুখে ঘটা চিত্রপট। যাঁর কল্পনা আর জল্পনা বহু দিন ধরেই হয়ে আসছে রজনিতির অলিন্দে।
আরও পড়ুনঃ তথাগত বলছেন দলত্যাগ আর মল-মুত্র ত্যাগ সমার্থক! বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে
আজ তৃণমূল ভবনে সেই জল্পনা বাস্তব রূপ পেয়েছে। মুকুল প্রত্যাবর্তনে সকলেই একপ্রকার বলছেন ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। কেউ কেউ বলছেন রাজনীতির চাণক্য ফের নিজের যায়গায় এসেছেন। ইতিমধ্যে মুকুলের দল বদলকে আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ, অর্জুন সিং। অন্য দিকে দিলীপ এড়িয়ে গিয়ে বলছেন, আমি কী করবো? তৃণমূলের নেতারা স্বাগত জানাচ্ছেন পুরানো সহকর্মীকে।
আজ ৪ সাল বাদ…বাংলার এক লোকসভা আর এক বিধানসভা নির্বাচন আলাদা আলাদা দল থেকে লড়ে ফের একসঙ্গে মুকুল-মমতা। ২০১৭ এর পর আরও একবারব তৃণমূল ভবনে একসঙ্গে পা রাখলেন বাংলা রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়-এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের একসঙ্গে রণকৌশল তৈরি করবেন তাঁরা। সামনেই ২৪ এর লোকসভা।
তবে ‘জোড়াফুলে মুকুল’ আসার পরেই বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কেষ্ট দা। তাঁর সাফ যুক্তি মুকুল নন, তৃণমূলের চাণক্য মমতাই। মুকুলের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অনুব্রত মন্ডল বলেছেন, সবাই বলতো মুকুল রায় না কি বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তো মুকুল রায় ছিলেন না। তাঁকে বিজেপিও সেভাবে কাজে লাগায়নি। অতএব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে আসল চাণক্য তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।
জোড়াফুলে মুকুল এল… এদিকে মুকুলের ঘরে ফেরার আলোচনার মাঝেই অনুব্রত বলে বসেন, ‘গ্রামে দেখেছেন রাতের বেলা গরু খুটি ছেড়ে পালিয়ে যায়। সকাল হলে আবার গরুটিকে ধরে নিয়ে আসা হয়।’ যদিও মুকুল রায়ের নাম যোগ করে একথা না বললেও ওয়াকিবহাল মহলের মতে কেষ্ট দা বুঝিয়ে দিতে চাইলেন মুকুলের ফেরা ছিল অনিবার্য। তাঁকে ফিরতেই হত নিজের পুরানো ঘরে। ভুল করে বিজেপিতে গিয়েছিলেন তিনি। আর তা তিনি বুঝেছেন। প্রসঙ্গত চাণক্য বিষয়ে সৌমিত্র খাঁও বলেছেন, মুকুল রায় চাণক্য হলে অন্তত নিজের ছেলেকে জিতিয়ে নিতে পারতেন।



