রাজ্যে নতুন করে চর্চায় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে পরিবারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের ফর্ম। সেখানে রেশন কার্ড থেকে আয়, জমি, স্বাস্থ্যবিমা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এমনকি CAA আবেদন সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর কৌতূহল—এই ফর্মে ঠিক কী কী তথ্য দিতে হবে এবং কীভাবে তা পূরণ করতে হবে?
সামনে আসা ফর্মের পাতাগুলি খতিয়ে দেখে দেখা যাচ্ছে, এটি মূলত পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাইয়ের একটি বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ফর্ম। ফর্মের শুরুতেই পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, আধার নম্বর, ডিজিটাল রেশন কার্ডের তথ্য এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যা চাওয়া হয়েছে।


পরিবারের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নাম, বয়স, সম্পর্ক এবং আধার নম্বরও আলাদা করে লিখতে হবে। এমনকি ভোটার তালিকায় নাম ও EPIC নম্বরের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম PDF ডাউনলোড করুন)

ফর্মে পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তর তথ্য দিতে হবে। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে পরিবারের বার্ষিক আয়, কোনও সদস্য সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে রয়েছেন কি না, PAN কার্ড আছে কি না, GST রেজিস্ট্রেশন রয়েছে কি না।


এছাড়া জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত অংশে পরিবারের মোট জমির পরিমাণ, বাড়ির ধরন, গাড়ি রয়েছে কি না, স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না—এসব তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। যদি কোনও সদস্যের বিমা থাকে, তবে বিমার ধরন, বিমার অঙ্ক এবং প্রিমিয়ামের বিবরণও দিতে হবে।
ফর্মে শিক্ষার তথ্যও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে চাওয়া হয়েছে। পরিবারের শিশু সদস্যদের স্কুল বা মাদ্রাসার নাম, শ্রেণি, টিকাকরণের বর্তমান অবস্থা—সবই সেখানে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তাও জানাতে হবে।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে CAA সংক্রান্ত অংশটি। সেখানে পরিবারের কোনও সদস্য CAA-র জন্য আবেদন করেছেন কি না বা সার্টিফিকেট পেয়েছেন কি না, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই অংশ নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ফর্মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, IFSC কোড, KCC বা অন্যান্য ক্রেডিট কার্ডের তথ্যও দিতে হবে। অর্থাৎ প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি ব্যাঙ্কে পাঠানোর দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কীভাবে ফর্ম ফিলআপ করবেন, সেই বিষয়েও কিছু নির্দেশিকা রয়েছে। প্রতিটি অংশে সঠিক তথ্য লিখতে হবে এবং যেখানে প্রযোজ্য সেখানে টিক চিহ্ন দিতে হবে। আধার, রেশন কার্ড, জমির নথি, বিমার কাগজ, PAN, ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের মতো নথি হাতের কাছে রাখলে ফর্ম পূরণ করতে সুবিধা হবে।
ফর্মের শেষে আবেদনকারীকে ঘোষণা করতে হবে যে দেওয়া সমস্ত তথ্য সঠিক। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে নির্দেশিকায়। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও তথ্য না বুঝে ফর্ম পূরণ না করে আগে পুরো বিষয়টি ভালভাবে জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



