মেয়ের মৃত্যুর বিচার এবং তদন্তে কথিত ‘ভিআইপি যোগ’ প্রকাশের দাবিতে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে ধর্নায় বসেছিলেন অঙ্কিতা ভাণ্ডারীর (Ankita Bhandari) বাবা-মা। বুধবার রাতের সেই অবস্থান বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস (Indian National Congress)। বিরোধীদের বক্তব্য, মেয়ের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী পরিবারের সঙ্গে পুলিশের এই আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২২ সালে উত্তরাখণ্ডের একটি রিসর্টে রিসেপশনিস্টের কাজ করতেন ১৯ বছরের অঙ্কিতা। সেই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। এই ঘটনায় রিসর্টের মালিক পুলকিত আর্য এবং তাঁর দুই কর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্ন তুলে ফের সরব হয়েছেন অঙ্কিতার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, তদন্তের কথিত ‘ভিআইপি যোগ’ সম্পূর্ণভাবে সামনে আসা প্রয়োজন।
বুধবার ইন্ডিয়া গেটে অবস্থান বিক্ষোভে পরিবারের পাশে দাঁড়ান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা (Priyanka Gandhi Vadra) এবং দলের অন্য নেতারা। পরিবারের দাবির মধ্যে রয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিজেপি নেতা দুষ্যন্ত কুমার গৌতমের (Dushyant Kumar Gautam) সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিয়োগ স্থগিত রাখা হোক। অঙ্কিতার পরিবারের তরফে এই নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। তবে গৌতমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না; তদন্তের ফল এবং আইনি প্রক্রিয়াই এ ক্ষেত্রে নির্ণায়ক।
বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ পুলিশ বিক্ষোভস্থল থেকে অঙ্কিতার বাবা-মা, কংগ্রেসের কয়েক জন নেতা এবং অন্য আন্দোলনকারীদের আটক করে। তাঁদের তিলক মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সকাল পাঁচটা নাগাদ অঙ্কিতার বাবা-মাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের আটকের কারণ নিয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
পুলিশের এই পদক্ষেপের পর কংগ্রেস নেতারা সরব হন। দলের নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে (Supriya Shrinate) এবং নেতা পবন খেড়া (Pawan Khera) অভিযোগ করেন, বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ দুর্ব্যবহার করেছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, অঙ্কিতার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে; তাঁদের বক্তব্য শোনার বদলে আটক করার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই অভিযোগগুলি কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য—পুলিশের বক্তব্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
অঙ্কিতা-কাণ্ডে বিচারের দাবি নতুন নয়। কিন্তু তদন্তের কথিত ‘ভিআইপি যোগ’ এবং দুষ্যন্ত গৌতমের নিয়োগকে ঘিরে পরিবার ও বিরোধীদের আপত্তিতে বিষয়টি ফের জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। পরিবারের দাবি, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের অবসান হওয়া দরকার। অন্যদিকে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী বলে ধরে নেওয়া যায় না। তদন্তের স্বচ্ছতা, প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ এবং পরিবারের প্রশ্নের জবাব—এই তিনটি বিষয়ই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্ডিয়া গেটে বাবা-মাকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে অঙ্কিতার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের বিচারপ্রাপ্তির দাবি। সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর দিতে হলে তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে আসা জরুরি।




