SR পদ ছাড়ায় ৩০ লক্ষ ফেরাতে হবে রাজ্যকে, কিউআর কোড শেয়ার করে ক্রাউড ফান্ডিংয়ে অনিকেত

সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ ছাড়ায় ৩০ লক্ষ ফেরতের চাপ, সমাজমাধ্যমে কিউআর কোড শেয়ার করে অনিকেত মাহাতোর ক্রাউড ফান্ডিং ঘিরে তীব্র বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সরকারি চাকরি ছাড়ার ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ (SR) পদ ত্যাগের পর রাজ্যকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, আর সেই অর্থ জোগাড়ে সমাজমাধ্যমে কিউআর কোড প্রকাশ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, নৈতিকতা থেকে প্রশাসনিক নিয়ম, সব কিছু নিয়েই। একাংশের অভিযোগ, এ কি তবে ‘ন্যায়বিচারের বিনিময়ে অর্থ’ চাওয়ার ডাক?

সোমবার, ৫ জানুয়ারি, আনুষ্ঠানিক ভাবে সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ বা এসআরশিপ ছাড়েন অনিকেত মাহাতো। একই দিনে রাতে সমাজমাধ্যমে একটি কিউআর কোড শেয়ার করেন তিনি। ওই কিউআর কোডের মাধ্যমে দেখা যায়, সল্টলেকের সাউথ ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কে তাঁর ব্যক্তিগত নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সর্বসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দেশ্য—ক্রাউড ফান্ডিং করে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার টাকা তোলা।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন জনগণের কাছে হাত পাততে হল? সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়া চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ একটি ‘বন্ড পোস্ট’। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পরিষেবা না দিলে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। অনিকেতের ক্ষেত্রে সেই অঙ্কটাই প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে অনিকেত মাহাতো সমাজমাধ্যমে লেখেন, “রাজ্য সরকারের বন্ডের অধীনে সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ পোস্ট পরিত্যাগ করেছি। বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র আমার প্রেরণা। বন্ড অনুযায়ী ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে, যা বহন করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সবার কাছে আর্থিক সহায়তা চাইছি।”

এর পাশাপাশি সোমবারই রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা ও স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে চিঠি পাঠান তিনি। সেই চিঠিতে অনিকেত অভিযোগ করেন, “সময়মতো আমাকে বৈধ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এর ফলে আমার মূল্যবান শিক্ষাকাল অপূরণীয়ভাবে নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিন মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি। তাই আর সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে যোগ দিতে ইচ্ছুক নই।”

তবে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বন্ডের মূল যুক্তি অন্য জায়গায়। এক আধিকারিকের কথায়,
“সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা হয় জনগণের করের টাকায়। তাই প্রশিক্ষণের পর জেলায় গিয়ে পরিষেবা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। কেউ সেই দায়িত্ব এড়ালে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।” নিয়ম অনুযায়ী, যতদিন না এই অর্থ সরকারকে জমা দেওয়া হচ্ছে, ততদিন স্বাস্থ্য দফতরের ‘এনওসি’ বা ছাড়পত্র পাবেন না অনিকেত মাহাতো।

এদিকে অনিকেতের ইস্তফা ও অবস্থান ঘিরে অস্বস্তি বেড়েছে চিকিৎসকমহলেও। সোমবার বিকেলে এই ইস্যুতে বৈঠক ডাকেছিল রেসিডেন্ট ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট থেকে অনিকেতের পদত্যাগ ঘিরে সংগঠনের অন্দরেও শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। যদিও শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণে সেই বৈঠক বাতিল হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে, একটি পদত্যাগ—আর তার পরই অর্থ, নিয়ম, ন্যায়বিচার ও ক্রাউড ফান্ডিংয়ের প্রশ্নে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন বিতর্কের আগুন ছড়িয়ে দিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত