দেশের উদ্যোক্তা এবং স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলির জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের উদ্যোক্তা এবং স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলিকে ব্যবসা শুরুর জন্য আরও উৎসাহিত করতে এবার তুলে নেওয়া হলো ‘দেবদূত কর’। মঙ্গলবার বাজেট পেশের সময় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
২০১২ সালে ‘দেবদূত কর’ চালু করেছিল তৎকালীন সরকার কংগ্রেস সরকার। তবে শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়তে হয় এই ‘দেবদূত কর’ ব্যবস্থাকে। এই কর চালু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক তছরুপ এবং হিসাব-বহির্ভূত লেনদেন রুখে দেওয়া। তবে এই করের বিরূপ প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্টার্ট-আপ এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করে। উদ্যোক্তাদের দাবি করে এই কর দেশের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং তহবিল সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে বাধা দেয়। আর তাই স্টার্ট-আপ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দিতে এই ‘দেবদূত কর’ এ বার তুলে নিল কেন্দ্র।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে চালু করা ‘দেবদূত কর’ বা অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স হল বাজারে নথিভুক্ত নয় এমন স্টার্ট আপ ও বিভিন্ন সংস্থায় বেসরকারি উদ্যোগ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, অলটারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড পুঁজি ঢালে। ওই সমস্ত বিনিয়োগকারীকে নথিতে উল্লিখিত দামের থেকেও বেশি দরে কোনও সংস্থা শেয়ার বিক্রি করলে যে অতিরিক্ত অর্থ তারা পায়, তার উপর কর দিতে হয়। এই কর আয়কর আইনের ৫৬ নম্বর ধারায় উল্লিখিত রয়েছে। সে সময় দেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যয়।
উদ্যোক্তা এবং স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলির জন্য সুখবর, উঠে যাচ্ছে ‘দেবদূত কর’!
মঙ্গলবার বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, সব ধরনের লগ্নির ক্ষেত্রেই তুলে নেওয়া হচ্ছে এই কর। তিনি জানান, বিশেষ করে স্টার্ট-আপের পাশাপাশি দেশে উদ্যোগপতি গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়াই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য।

তবে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় বাজেট অনুযায়ী এই কর তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও। অ্যাঞ্জেল ট্যাক্স ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে তা ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে বলে পাশাপাশি আস্থা বাড়বে শিল্পের। মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ।



