আনন্দপুরের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য। চার দিন পেরিয়েও যখন মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি, ঠিক সেই সময় নিহতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করলেন, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে জখমদের ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তার কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।” সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, মৃত ও আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে।


রবিবার গভীর রাতে কলকাতার উপকণ্ঠ আনন্দপুরে একটি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আগুনে পুরো গুদামটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও শনাক্তকরণের কাজ জটিল হয়ে উঠেছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে ডেকরেটিং গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মোমো সংস্থার বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অবশেষে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ওই মোমো সংস্থার দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করে।
এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এদিন আনন্দপুরে মিছিল করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সরকারি চাকরি এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তোলেন। একই সঙ্গে মোমো সংস্থার মালিককে গ্রেফতার না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজিকে আমি হৃদয় থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আনন্দপুরের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মানবিক বার্তা বহন করে।” তাঁর দাবি, এই আর্থিক সহায়তা শোকস্তব্ধ পরিবারগুলিকে মানসিক ও সামাজিক শক্তি জোগাবে।
উল্লেখ্য, এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে প্রত্যেক মৃতের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়া হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই ঘোষণার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।







