পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগে আরও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল আমূল। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে ৭০০ কোটি টাকার দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ ও দই উৎপাদন কেন্দ্রের শিলান্যাসের পাশাপাশি রাজ্যে আরও প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দুটি আধুনিক আইসক্রিম কারখানা গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে গুজরাট কোঅপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF)। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে একটি করে এই কারখানা তৈরি হলে দুগ্ধশিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও বড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ জানান, রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে প্রতিটি আইসক্রিম কারখানার জন্য ১৫ একর করে জমি দেওয়ার বিষয়ে সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও তিনি জানান।
সাঁকরাইলের পর এবার দুই আইসক্রিম কারখানা
আমূলের বর্তমান প্রকল্পের আওতায় হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে তৈরি হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ ও দই উৎপাদন কেন্দ্র। প্রায় ৭০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন ২০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতা বাড়িয়ে ৩০ লক্ষ লিটার করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে দুটি বিশ্বমানের আইসক্রিম কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি কারখানা নির্মাণে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ করা হবে।
কর্মসংস্থানের বড় সম্ভাবনা
অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন দুটি আইসক্রিম কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় জমি সরকার দেবে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে শুধু দুগ্ধ উৎপাদকরাই নন, পরিবহণ, বিপণন, ডিলার, ভেন্ডর এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্র মিলিয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সাঁকরাইলের কারখানাতেই সরাসরি প্রায় ১,০০০ জনের কর্মসংস্থান হবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
২০২৮ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য
GCMMF-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়েন মেহতা জানান, সাঁকরাইলের দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পে আগামী দু’বছরের মধ্যে অথবা ২০২৮ সালের মাঝামাঝি উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন আইসক্রিম কারখানা নির্মাণের বিষয়ে রাজ্য সরকারের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই সংস্থার কাছে পৌঁছেছে। প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণও হবে বলে জানান তিনি।
সমবায় ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ
এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের কৃষক সমবায়গুলির পণ্য বিপণনে স্বচ্ছতা আনতে নতুন WB e-RCS Portal চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি জেলায় ১৪টি নতুন গুদামঘরের শিলান্যাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কোচবিহারে দুটি আধুনিক গুদামঘরের উদ্বোধনও করা হয়।
দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ থেকে আইসক্রিম উৎপাদন—আমূলের ধারাবাহিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে নতুন গতি আনতে পারে বলেই মনে করছে শিল্পমহল। একই সঙ্গে কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদক এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলির ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা করা হচ্ছে।