নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারতের এক ইঞ্চি জমি দখল করতে পারবে না। চিনের হামলার পরেই মঙ্গলবার এমনটাই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কথায়, গত ৮ ও ৯ ডিসেম্বর রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে বীরত্ব দেখিয়েছে, তাকে আমি কুর্নিশ জানাই।
আরও পড়ুনঃ Bagtui: লালন শেখের মৃত্যু তদন্তে নামল সিআইডি, ক্ষোঁভে ফুঁসছে বগটুই
একেবারে স্পষ্ট করে অমিত শাহের দাবি, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত মোদী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, কেউ আমাদের এক ইঞ্চি জমি দখল করতে পারবে না। এমনিতেই অরুণাচল ইস্যুতে গতকাল থেকেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এদিন সকালেই চিনের হামলা নিয়ে আলোচনার জন্য মুলতুবী প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলি। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যের পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। যা নিয়েও কটাক্ষ করতে পিছপা হননি অমিত শাহ।
তাঁর কথায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং চিনা হমলার বিবৃতি দেবেন এটা জানার পরেও কংগ্রেস দুর্ভাগ্যজনক ভাবে প্রশ্নোত্তর পর্ব ভণ্ডুল করে দিল। আমি প্রশ্নোত্তর পর্বের তালিকা দেখেছি। সেখানে ৫ নম্বর প্রশ্নটি দেখেই বুঝতে পেরেছি কংগ্রেস কেন এমন করছে। কংগ্রেসের উদ্বেগ বুঝি। কংগ্রেসের প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরি ছিলেন বলেও দাবি করেন অমিত শাহ।

একইসঙ্গে ২০০৬ সালে যখন কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, তখনই চিন অরুণাচলের উপর তাদের অধিকারের দাবি জানিয়েছিল। একইসঙ্গে অমিত শাহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, যদি অধিবেশন চলতে দেওয়া হত, তাহলে আমি সংসদে দাঁড়িয়ে উত্তর দিতাম যে, ২০০৫-০৬ এবং ২০০৬-০৭ অর্থবর্ষে রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা অনুদান হিসাবে চিন দূতাবাস থেকে পেয়েছে। যা নীতির পরিপন্থী।
এদিন তাওয়াংয়ের চিনা হামলা নিয়ে মঙ্গলবার সংসদে বিবৃতি দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, সীমালঙ্ঘনের চেষ্টা চালিয়ে গত ৯ ডিসেম্বর তাওয়াং সেক্টরের ইয়াংসে এলাকায় হামলা চালায় পিপলস লিবারেশন আর্মি। চিনা ফৌজের হামলার পরেই কৌশলে ভারতীয় সেনা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল। কোনভাবেই চিনা ফৌজ যাতে ভারতের গণ্ডির মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করে গেছে ভারতীয় সেনা।
ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারতের এক ইঞ্চি জমি দখল করতে পারবে না, হুঙ্কার অমিতের

তিনি আরও বলেন, চিনের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমি সংসদকে আশ্বস্ত করতে চাই ভারতীয় সেনা আমাদের সীমান্ত রক্ষার ক্ষেত্রে যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর সংযোজন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে সেনারা আহত হলেও তবে সেটা মোটেই চিন্তার বিষয় নয়। সেনা কম্যান্ডারদের দ্রুত হস্তক্ষেপে লাল ফৌজের সেনারা নিজেদের জায়গায় দিরে গেছে।



