দীর্ঘদিন ধরেই আদি–নব্য দ্বন্দ্বে অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি। একসময়ের প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ক্রমশই কোণঠাসা—এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল দলীয় অন্দরে। সেই প্রেক্ষিতেই বুধবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর ডাকা বৈঠকে দিলীপের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শাহের সঙ্গে এই বৈঠকে রাজ্যের সাংসদ ও বিধায়কদের ডাকা হয়েছে। সেখানেই আমন্ত্রণ পেয়েছেন দিলীপ ঘোষও। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল ফোন করে তাঁকে বৈঠকে যোগ দিতে অনুরোধ করেন। সেই মতোই বুধবার সকালে দিলীপ বৈঠকে হাজির হন।


দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই যে বঙ্গ বিজেপির সংগঠন একসময় শক্ত ভিত পেয়েছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির ১৮ আসনে জয়ের পিছনে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন ৩ থেকে বেড়ে ৭৭—এই উত্থানও তাঁর আমলের ফল। কিন্তু পরবর্তীতে দলে নতুন মুখের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো নেতৃত্বের একাংশ ক্রমে আড়ালে চলে যান।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে নিজের গড় মেদিনীপুর ছেড়ে বর্ধমান পূর্বে প্রার্থী হওয়া এবং সেখানে পরাজয়ের পর দিলীপের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়। চলতি বছর প্রধানমন্ত্রীর ও শাহের কলকাতা সফরের কর্মসূচিতে তাঁকে না ডাকায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন দিলীপ। তার পর থেকেই দলীয় অন্দরে তাঁর ‘ব্রাত্য’ হয়ে যাওয়ার আলোচনা জোরদার হয়।
এদিকে দিলীপ সামনে না থাকায় একের পর এক নির্বাচনে বিজেপির ফল খারাপ হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংগঠনের কৌশল নিয়েও। সম্প্রতি তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, দিলীপ ঘোষের সময়ে দলের সাংসদ সংখ্যা ১৮ হয়েছিল—এই বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। তাঁর মতে, দিলীপের নিজস্ব রাজনৈতিক স্টাইল এখনও বহু কর্মী-সমর্থকের কাছে অনুপ্রেরণা।


এই আবহে শাহের বৈঠকে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিকে অনেকেই দেখছেন ‘বরফ গলার’ ইঙ্গিত হিসেবে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সংগঠন মজবুত করতে অভিজ্ঞ নেতাদের ফের সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চাইছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই কারণেই হয়তো ‘অভিমানী’ দিলীপের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচানোর উদ্যোগ।
তবে এই বৈঠক আদৌ কতটা কার্যকর হবে এবং দিলীপ ঘোষকে সামনে রেখে নতুন কোনও সমীকরণ গড়ে ওঠে কি না—সে উত্তর মিলবে আগামী দিনগুলিতেই।







