‘অনুপ্রবেশকারীদের বার করবই!’— চার্জশিটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ শাহের, স্পটলাইটে শুভেন্দু

নিউ টাউনে ‘জনগণের চার্জশিট’ প্রকাশ করে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অমিত শাহ। অনুপ্রবেশ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও ভোট রাজনীতি— সব ইস্যুতে আক্রমণ শানাল বিজেপি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিউ টাউনের এক হোটেল থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে উত্তাপ ছড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘জনগণের চার্জশিট’ প্রকাশ করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন তিনি। অনুপ্রবেশ, প্রশাসনিক অচলাবস্থা থেকে শুরু করে ভোটের রাজনীতি— একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শাহের বক্তব্যে স্পষ্ট, ২০২৬ নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপির কৌশল এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক।

শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতায় পৌঁছে শনিবার ‘চার্জশিট’ প্রকাশের মাধ্যমে কার্যত নির্বাচনী প্রচারের সুর চড়ালেন শাহ। তাঁর দাবি, অসমে অনুপ্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এখন দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “এখন অনুপ্রবেশের একটাই রাস্তা বাকি— সেটি পশ্চিমবঙ্গ। তাই এই রাজ্যের নির্বাচন গোটা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।”

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সরাসরি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, “এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, রাজ্য সরকার কী করছে?” একইসঙ্গে তিনি জানান, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিলে কেন্দ্র দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সেই জমি হস্তান্তর করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

শাহ বলেন, “১৫ বছরে কাটমানির সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকার। আমি বিশ্বাস করি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে। তাই আমাদের ভোট দেবেন। তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাত করুন।” তিনি আরও বলেন, “আজকের বাংলা কবিগুরুর বাংলা আর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাঙালি অস্মিতাকে পাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়েও সরব হন শাহ। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই কেন সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হল— তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। দাবি করেন, রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলার অভিযোগও তুলেছেন শাহ। তাঁর কটাক্ষ, ভোটের সময়েই বারবার অসুস্থতা দেখিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এবার সেই কৌশল কাজ করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনের আধিকারিকদের বদলি প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “সারা দেশেই ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন অফিসারদের বদলি করে। এটা নতুন কিছু নয়। এখানে সব আধিকারিক সরকারের হয়ে কাজ করেন। তাই এখানে বেশি পরিবর্তন হচ্ছে।”

এদিনের সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকাও আলাদা করে উল্লেখ করেন শাহ। তিনি বলেন, শুভেন্দু গোটা রাজ্য ঘুরে সরকারের ব্যর্থতা মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন— যা বিজেপির সংগঠনে নতুন গতি এনেছে।

শুধু সমালোচনায় থেমে থাকেননি শাহ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়বে। পাশাপাশি “অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে এক সরকার” প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও তুলে ধরেন তিনি।

সব মিলিয়ে, ‘জনগণের চার্জশিট’ প্রকাশের মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিল— ২০২৬-এর লড়াই শুধুমাত্র রাজ্যের নয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন