নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের লাখিমপুর খেরিতে চার কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলে আশীষ মিশ্র এই মুহুর্তে জেল হেফাজতে। ইতিমধ্যেই ওই দিনের ঘটনাকে পূর্ব পরিকল্পিত বলে আখ্যা দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। কৃষক হত্যায় অভিযুক্ত ছেলেকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকের ওপর মেজাজ হারালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র।
আরও পড়ুনঃ Lakhimpur Kheri: কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ, সংসদে সুর চড়ালেন বিরোধীরা
ওই সাংবাদিকের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন একটি সরকারী কর্মসূচীর কারণে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনি। সেই সময় তাঁর ছেলেকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারান। বলেন,”এখনও অবধি তো চার্জশিট দায়ের হয়নি। বোকা আছেন নাকি? ভদ্রতা নেই নাকি?” এভাবে বক্তব্য রাখার পর সহকর্মীর মোবাইল ক্যামেরা বন্ধ করার কথাও জানান তিনি।
গোটা ভিডিওটি স্যোশাল মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। এই ইস্যুকে হাতিয়ের করে ট্যুইট করেছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। কেন এই কাজ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।
केंद्रीय गृह राज्य मंत्री अजय मिश्रा टेनी अब मीडिया को धमकी दे रहे है।
SIT द्वारा लखीमपुर किसान नरसंहार को 'सोची समझी साजिश' करार दिए जाने के बाद जब मंत्री जी से सवाल पूछा गया तो मंत्री जी भड़क गए।
हम मीडिया व इन पत्रकार के साथ हुए इस बर्ताव की निंदा करते है।
1/2 pic.twitter.com/xppriWFGom
— Kisan Ekta Morcha (@Kisanektamorcha) December 15, 2021
ইতিমধ্যেই লাখিমপুর খেরির ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত আশীষ মিশ্রর বাবা অজয় মিশ্রকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণের দাবীতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সিটের আবেদন এবং মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সংসদের অন্দরে সরব হয়েছে বিরোধীরা। এদিন লোকসভায় এনিয়ে আলোচনা চায় কংগ্রেস। কিন্তু অনুমতি না মেলায় ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসরা।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলে আশীষ মিশ্রর গাড়িতে চাপা পড়ে চার কৃষকের মৃত্যু হয়। তারপর জমা হওয়া ভিড়ের প্রহারে প্রাণ হারান বিজেপি কর্মী। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জলঘোলা কম হয়নি। পাঁচ দিন ধরে পুলিশের তলব এড়িয়ে যাওয়ার পর গ্রেফতার হয় অজয় মিশ্রর ছেলে আশীষ মিশ্র সহ ১৩ জন।
সম্প্রতি একটি ফরেন্সিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশীষ মিশ্রর বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে। গুলি ছোঁড়া হয়েছিল আশীষের বন্ধু অঙ্কিত দাসের বন্দুক থেকেও। খুনের পাশাপাশি গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে দুই জনের বিরুদ্ধে। বিশেষ তদন্তকারী দলের অফিসার বিদ্যারাম দীবাকর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া আবেদনে জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরে যে ধারা লাগু করা হয়েছে তা সরিয়ে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
কৃষক হত্যায় অভিযুক্ত ছেলেকে নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষিপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩৩৮ এবং ৩০৪ এ ধারা পরিবর্তে ৩০৭, ৩২৬, ৩৪,২৭৯, ৩৩৮ এবং ৩০৪ এ ধারায় মামলা দায়ের করা হোক। অভিযুক্তদের সকলকেই লাখিমপুর খেরি আদালতে রাখা হয়েছে। এর আগে গোটা ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের দিকে প্রশ্ন তুলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে তদন্ত চেয়েছিল আদালত। শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপের পরেই বদলে যায় মামলার গতিপ্রকৃতি।



