নজরবন্দি ব্যুরোঃ ইয়াস মোকাবিলায় প্রস্তুত বায়ুসেনা, একে করোনা তার দোসর ঘুর্ণিঝড়। গচতবছরের মতোই এবার বাংলায় আছড়ে পড়তে চলেছে ঘুর্ণিঝড় প্রবল বেগে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন বৈঠক করছে দফায় দফায়। গত কয়েকদিন ধরেই সাগর পাড়ের সব জেলাগুলিতে নেওয়া হয়েছে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি।
আরও পড়ুনঃ অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৮০, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বুদ্ধবাবুকে


আবহাওয়া দপ্তরের খবর অনুযায়ী সমুদ্রে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। মৌসম ভবন সূত্রে খবর, দিঘা থেকে মাত্র ৩৮০ কিলোমিটার দূরে ইয়াস। আর স্থলভূমিতে আছড়ে পড়ার সময় হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। এখনও পর্যন্ত অনুমান ওডিশার বালাসোরের কাছেই আছড়ে পড়তে চলেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াস আগামী ২৬ মে আছড়ে পড়বে বাংলার সমুদ্র উপকূলে। তবে ঠিক কোথায় (Landfall) আছড়ে পড়বে সেটা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিন্ত নন আবহবিদরা। তবে সবচেয়ে সম্ভাবনা এই রাজ্যেই। নিম্নচাপের প্রভাবে শনিবার দুপুর থেকেই দক্ষিণবঙ্গে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি।
জেলা গুলিতে শুরু হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতা। সরানো হচ্ছে মানুষদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল জানিয়েছিলেন আমফানের থেকে বেশি তান্ডব চালাতে পারে ইয়াস। রাজ্য জুড়ে বিপর্যয় মোকাবিলায় তৈরি হয়েছে বহু টিম। উপকূল বর্তী এলাকায় জোরকদমে চলছে কাজ। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে বৃষ্টির পরিমান আরও বাড়বে। ২৬ তারিখ থেকে শুরু হবে ভারী বৃষ্টি, সেই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া।


হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ৫০-৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। অপর দিকে মঙ্গলবার থেকেই এই সাইক্লোনের প্রভাবে ঝোড়ো বাতাস বইবে জেলায় জেলায়। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে। আমফান রাজ্যের সব জেলাতে প্রভাব না ফেললেও, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ইয়াস মোটামোটি রাজ্যের ২০ টি জেলার ওপর তান্ডব চালাবে। সব্রকম ভাবে প্রস্তুত হচ্ছে প্রশাসন। রাজ্যের চরম দূর্যগের দিনে পরিস্থিতি মোকাবিলা, ত্রাণ সরবরাহ সমস্ত কাজের জন্য ততপর হয়েছে বায়ুসেনা।
ইয়াস মোকাবিলায় প্রস্তুত বায়ুসেনা, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বায়ুসেনার তরফে রাজ্যের জন্য তৈরি হয়ে আছে ১১ টি যুদ্ধবিমান এবং ২৫ টি হেলিকপ্টার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ১একটি ‘সি ১৭ গ্লোবমাস্টার’, ১টি ‘আইএল -৭৬’, ৩টি ‘সি ১৩০ জে সুপার হারকিউলিস’, ৪টি ‘আন্তনভ-৩২’, ২টি ‘ডনিয়ার ট্রান্সপাের্ট এয়ারক্রাফ্ট’। যুদ্ধবিমানগুলি ছাড়াও থাকবে ১১ টি ‘মিগ ১৭ ভি ৫’ হেলিকপ্টার, ২টি ‘চেতক’, ৩টি ‘চিতা’, ২টি ‘ধ্রুব অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার’ এবং সাতটি ‘মিগ ১৭’। উদ্ধার কাজের জন্য পাটনা ও বারাণসী থেকে কলকাতায় বিমানে করে আনা হয়েছে ৩৩৪ জন বিপর্যয় মােকাবিলা দলের সদস্যকে। এছাড়া এনডিআরএফের ৬০৬ জন সদস্য ও ৫৭ টন সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে এয়ারফোর্স। আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য মজুত রাখছে আরও সরঞ্জাম।







