এআই সম্মেলনে ‘রোবট কেলেঙ্কারি’: নেট বিপর্যয়ের পর চিনা প্রযুক্তি নিজের দাবি, দু’দিনে দু’বার ক্ষমা

এআই সম্মেলনে প্রথমে ইন্টারনেট বিপর্যয়, পরে চিনা রোবটকে দেশীয় প্রকল্প দাবি—গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমা ও প্রদর্শনী প্রত্যাহারে চাপে আয়োজন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন—যাকে বিশ্বের বৃহত্তম বলে দাবি করেছে কেন্দ্র—সেই মঞ্চেই পরপর দু’টি বিতর্কে অস্বস্তিতে আয়োজকেরা। প্রথম দিন ইন্টারনেট বিপর্যয়, আর তৃতীয় দিনে ‘চিনা রোবট-কুকুর’কে দেশীয় প্রকল্প বলে প্রচারের অভিযোগ। বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে হল গ্রেটার নয়ডার গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়কে। আয়োজকদের নির্দেশে তাদের প্রদর্শনী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভারত মণ্ডপমে পাঁচ দিনের এই এআই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রযুক্তির অগ্রগতির বার্তা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই বিঘ্ন। উদ্বোধনের দিনেই অভিযোগ ওঠে—ওয়াই-ফাই সংযোগ ভেঙে পড়েছে, ডিজিটাল পেমেন্ট কাজ করছে না, এমনকি অতিথিদের দোকানের বিল মেটাতেও সমস্যা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি সম্মেলনে এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকাশ্যে বলেন, প্রথম দিনের ত্রুটির জন্য আয়োজকেরা দুঃখিত।

এর মধ্যেই তৃতীয় দিনে নতুন বিতর্ক। গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্যাভিলিয়নে একটি রোবট-কুকুর প্রদর্শন করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘ওরিয়ন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, প্রায় ৩০০ কোটির প্রকল্পের আওতায় এই রোবট তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অভিযোগ—রোবটটি আসলে চিনে নির্মিত ‘ইউনিট্রি গো-২’ মডেলের সঙ্গে হুবহু মেলে। এই রোবট আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হয় এবং অনলাইনেও কেনা যায়, যার দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

বিতর্ক তীব্র হতেই আয়োজকেরা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের প্রদর্শনী সরাতে বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে স্বীকার করে নেয়, পণ্যটি তাদের নিজস্ব উদ্ভাবন নয়। দাবি করা হয়, প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতেন না এবং সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতিও পাননি। ক্যামেরার সামনে উত্তেজনায় ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে—এমনটাই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের তরফে কোনও ইচ্ছাকৃত প্রতারণার অভিপ্রায় ছিল না বলেও জানানো হয়।

অধ্যাপক নেহা সিংহও সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, কিছু বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি এবং ভুল বোঝাবুঝি থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

তবে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—একটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলনে প্রদর্শিত পণ্যের উৎস যাচাই না করেই কীভাবে এমন দাবি করা হল? প্রথম দিনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের পর এই ‘রোবট বিতর্ক’ সম্মেলনের ভাবমূর্তিতে আরও ধাক্কা দিল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, উদ্বোধনী দিনে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তী দিনগুলিতে ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। কিন্তু দু’দিনে দু’বার ক্ষমা চাইতে হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—প্রযুক্তির সর্বোচ্চ মঞ্চে আয়োজনের মানদণ্ড কতটা কঠোর ছিল?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত