জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি চলবে আন্দোলন, লখনউ থেকে হুঁশিয়ারি হান্নান মোল্লার

জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি চলবে আন্দোলন, লখনউ থেকে হুঁশিয়ারি হান্নান মোল্লার
জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি চলবে আন্দোলন, লখনউ থেকে হুঁশিয়ারি হান্নান মোল্লার

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা কেন্দ্রের তিন আইন প্রত্যাহার করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার৷ খাতায় কলমে আইন প্রত্যাহার না হওয়া অবধি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার লখনউয়ের মহাপঞ্চায়েতে উপস্থিত হন কৃষক নেতারা। সেই মহাপঞ্চায়েতের মঞ্চ থেকে সরব হলেন সর্বভারতীয় কিষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা। জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি চলবে আন্দোলন, লখনউইয়ের মহাপঞ্চায়েত থেকে হুঁশিয়ারি হান্নান মোল্লার।

আরও পড়ুনঃ ক্ষতিপূরণ সহ এমএসপি সুনিশ্চিত করুক সরকার, মোদিকে চিঠি বরুণের

তিনি বলেন, ৭০০ কেন ৭০০০ কৃষকের মৃত্যু হলেও জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি আন্দোলন জারি থাকবে৷ কৃষকদের এই একাগ্রতাই আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার। এই একাগ্রতা আজ অবধি রয়েছে। স্বাধীনতার আগে এবং স্বাধীনতার পরে এধরনের আন্দোলন হয়নি। এটা ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম কৃষক আন্দোলন। ভারতবর্ষ কেন, সারা বিশ্বে এত বড় কৃষক আন্দোলন আগে কখনও হয়নি।

হান্নান মোল্লার সংযোজন ,প্রায় ৫০০ সংগঠন একযোগে এসকেএম গঠন করেছে। যেখানে ৫ সংগঠন একসঙ্গে চলতে পারে না সেখানে ৫০০ সংগঠন একসঙ্গে ১ বছর ধরে আন্দোলন করছে৷ তাই এটা ঐতিহাসিক। বিভিন্নভাবে আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু করতে পারেনি। গান্ধীজি দেখলে খুশি হতেন এতবড় একটা আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে এক বছর ধরে চলছে।

দেশ বিদেশ থেকে এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন৷ এই প্রথমবার কৃষকদের পাশাপাশি মজদুর সংগঠনগুলি একজোট হয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা বার বার বলেছিলাম বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া হোক। কিন্তু তা হয়নি। বরং জোর করে নিরপেক্ষভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত কৃষকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার কেবিনেট বৈঠক না করেই আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা কোনও সাংবিধানিক পথ নয়। আমরা চেয়েছিলাম বৈঠকের মাধ্যমে আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিক সরকার। কিন্তু তা হয়নি।

জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি চলবে আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও অনড় কৃষকরা

Farmer protests
জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি চলবে আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও অনড় কৃষকরা

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন জারি রয়েছে কৃষকদের৷ ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লি উপকন্ঠে সিঙ্ঘু, টিকরি এবং গাজিপুর সীমান্তে ১২ মাস ধরে চলছে আন্দোলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফে আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হলেও খাতায় কলমে তা প্রত্যাহার না হওয়া অবধি পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষকরা। ২৭ তারিখ বৈঠকের মাধ্যমে নেওয়া হবে পরবর্তী কর্মসূচি। জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি চলবে আন্দোলন। আপাতত এমএসপি সুনিশ্চিতকরণ সহ একাধিক দাবীতে আন্দোলন জারি রাখতে চাইছেন কৃষকরা।