এবার প্রতারণা মামলার চার্জশিটে নেই মুকুলের নাম! কিসের ইঙ্গিত?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ এবার প্রতারণা মামলার চার্জশিটে নেই মুকুলের নাম! রেলে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তুলে প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়কে জেরা করেছিল সরশুনা থানার পুলিশ। কিন্তু ফের সত্যজিৎ হত্যা কেসের মতই মুকুল রায়ের নামে চার্জশিট দিলনা পুলিশ। চাকরি প্রতারণা মামলায় বিজেপির ট্রেড ইউনিয়ন নেতা বাবন ঘোষকে আগে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। জানা গিয়েছিল, মুকুল রায়ের নাম ভাঙিয়েই রেল বোর্ডে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একজনের কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন বাবন।

আরও পড়ুনঃ যোগিরাজ্যে গ্যাংরেপ, কালো কাপড় হাতে প্রতিবাদ মিছিল মমতার।

এই প্রতারণা কাণ্ডে একাধিকবার মুকুল রায় কে জেরা করা হয়। থানাতেও বহুবার হাজিরা দিয়েছেন মুকুল। কিন্তু তার নাম নেই পুলিশের চার্জশিটে! এই ঘটনায় বিজেপির বক্তব্য, কোন প্রমান নেই বলেই নাম নেই মুকুল রায়ের। কিন্তু সত্যিই কি তাই? রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে।

কয়েকদিন আগে তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস হত্যা কাণ্ডে চার্যশিট দেয় সিআইডি। চার্যশিটে নাম রয়েছে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের। চার্যশিটে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জগন্নাথ সরকারের নাম। পাশাপাশি মুকুল রায় কে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরলেও নাম রাখা হয়নি চার্যশিটে। যদিও সেই মামলায় প্রধান অভিযুক্তের তালিকায় নাম ছিল মুকুলবাবুর। হাইকোর্টের নির্দেশে নদিয়ায় প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল তাঁর।

এদিকে রেলে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা মামলায় গতকাল চার্জশিট দেয় কলকাতা পুলিশ, কিন্তু সেখানেও নাম নেই মুকুল রায়ের। ২০১৯-এর আগস্ট মাসে সরশুনার বাসিন্দা সন্তু গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ২০১৫সালে তাঁকে পূর্ব রেলের জোনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটিতে সদস্য করার প্রস্তাব দেন কয়েকজন। পরিবর্তে নেওয়া হয় ৪৬ লাখ টাকা। পাশাপাশি, রেলের চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে চাকরি করিয়ে দেওয়ার জন্য জাল নিয়োগপত্র দিয়ে তাঁর কাছ থেকে আরও ১৫ লাখ টাকা নেয় সেই প্রতারকরা। সরশুনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়। সেই প্রতারণা মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় নাম ছিল নেতা মুকুল রায়ের।

তদন্তে নেমে সরশুনা থানা দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি নেতা বাবান ঘোষ, রাহুল সাউ, সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করে। একাধিকবার জেরা করা হয় মুকুল রায়কেও। পরে সরশুনা থানা থেকে মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল(SIT) এর হাতে। সিট গতকাল আলিপুরে অতিরিক্ত বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে এই প্রতারণা মামলার চার্জশিট পেশ করেছে। চার্জশিটে নাম রয়েছে ধৃত বাবান ঘোষ, রাহুল সাউ, সাদ্দাম হোসেন, এবং কামাল আনসারির। কামাল এখনও পলাতক।

এবার প্রতারণা মামলার চার্জশিটে নেই মুকুলের নাম! কেন? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, মুকুল রায়ের নামে একধিক প্রমান থাকা সত্বেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে! রাজনৈতিক মহলে ২টি জল্পনা তৈরি হয়েছে। ১) মুকুল রায় বিজেপি-র সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদ পেলেও কি যোগাযোগ রেখে চলেছেন তৃণমূলের সাথে? অথবা ২) তৃণমূল ঘর ওয়াপসির জন্যে স্পেস দিচ্ছে একদা সেকেন্ড ইন কমান্ড কে? এদিকে সূত্র জানাচ্ছে এই মামলায় কমপক্ষে ৪টি প্রমান নাকি রয়েছে পুলিশের হাতে! পরবর্তী চার্যশিটে তাই মুকুল রায়ের নাম থাকবে না সেকথা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত