নজরবন্দি ব্যুরোঃ কিছুদিন আগেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়ে এখন প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তদন্তের যা গতি প্রকৃতি তাতে এখনই জেল মুক্ত হওার সম্ভাবনা তার নেই বললেই চলে। অন্যদিকে গতকালই বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসেছে সিবিআই। আপাতত ১০ দিনের কাস্টডি। এই পরিস্থিতিতে বড় ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
আরও পড়ুনঃ বীরভূমে একচ্ছত্র নেতাগিরি করা অনুব্রত-যুগ শেষ, আসছেন শতাব্দী।
এদিন মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, ‘পদ খালি তো আরও বেশি হওয়া উচিত। তবে দুটো উইকেট পড়েছে। আরও অনেক বেশি পড়বে আমার ধারণা। এরপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যদি মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে হয় জেলের মধ্যে গিয়ে করতে হবে। পার্টির যদি মিটিং করতে হয় জেলের মধ্যে গিয়ে করতে হবে।’

কিন্তু কেন এমন বললেন দিলীপ ঘোষ? সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বেশিরভাগ নেতা মন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্ত। তাই সাধারণ মানুষই কোর্টে গেছে। কোর্ট সিবিআই তদন্ত দিয়েছে, সেই সিবিআই তদন্তে ধরা পড়ছে সব। যারা রাজনীতি করছেন, তারা মাথা ঠিক করুন।’

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতার বাড়তি সম্পত্তি নিয়ে মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট ইডি–কে পার্টি করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘চোর ডাকাতদের কোন মান সম্মান থাকে না। মোদীজি না দিলীপ ঘোষ কে কেস করেছে? সাধারণ মানুষ কেস করেছেন। নারদা আর সারদার কেস কে করেছে? সাধারণ মানুষ কেস করেছে। পার্টি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরে।’
‘মন্ত্রিসভার বৈঠক এরপর জেলে করতে হবে’, বড় ইঙ্গিত দিলেন দিলীপ

তাঁর ব্যাখ্যা, ‘এসএসসি, টেট দুর্নীতি–সহ গরু পাচার, কয়লা পাচার হয়েছে। এতদিন লুঠ করছিলেন, ভাবছিলেন কেউ কিছু করবে না। আজ যখন দেখছেন ব্যাপারটা উল্টো হয়ে গিয়েছে তখন উল্টোপাল্টা বলছেন। আইন থেকে কেউ বাঁচবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রী ছিলেন, রোজ রাস্তায় নেমে সিবিআই তদন্তের দাবি করতেন। আজ যখন টাকা বের করছেন ওদের বাড়ি থেকে, তখন সিবিআই খারাপ হয়ে গেল! সবে শুরু। পার্থবাবু জুতো খেয়েছেন, কেষ্টদা জুতো খেয়েছেন। তোমরাও জুতো খাবে। যদি মান সম্মান থাকে, মা–বাবার মান সম্মান রাখতে চাও, রাস্তায় বেরিও না, চোরেদের জন্য লোকে জুতোপেটা করবে, আমরাও করব।’



