নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১০-বার সিবিআই সমন এড়িয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গতকাল গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কেষ্টকে গরু পাচার কাণ্ডে আটক করেছে সিবিআই। যিনি ছিলেন বীরভূমের বেতাজ বাদসা, তিনিই এখন একা। যার নামে একদিন আগেও বাঘে গরুতে জল খেত একঘাটে, তাঁর বাড়ির পাশেই এখন স্লোগান উঠছে গরু ‘চোর’। আপাতত ১০ দিন সিবিআই হেফাজতে থাকবেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA বিশবাঁও জলে, হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন রাজ্যের।


কিন্তু ১০ দিনেই কি সিবিআই ক্ষান্ত হবে? সূত্রের খবর ১০ দিন পরেই স্বমহিমায় ফিরবেন অনুব্রত এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। আপাতত সিবিআই হেফাজত, পরে জেল, পার্থর মত এটাই অনুব্রতর ভবিষ্যৎ। একদিকে যখন অনুব্রত সিবিআই কাস্টিডিতে রয়েছেন তখন অন্যদিকে বীরভূমের রাজনীতিতে শরগোল পড়ে গিয়েছে। গুড় বাতাসা, নকুলদানা বা পাঁচনের বাড়ির প্রবক্তা অনুব্রতর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন শতাব্দী রায়।

অনুব্রতর বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থকে বলা হয়, ‘দল ব্যাবস্থা নেবে সময় হলেই।’ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে ৫ দিনের মাথায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলে সেই কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয় গতকালের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে। অনুব্রতর পাশে যে তৃণমূল নেই সেকথা গত পরশু থেকেই কমবেশি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, যখন এসএসকেএম হাসপাতাল ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিল এই দোর্দোণ্ডপ্রতাপ নেতাকে।



এদিকে গতকাল দলের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘‘কোনও অনৈতিক ও দুর্নীতিকে দলে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। দলের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছেন, দুর্নীতিকে কোনও ভাবেই মেনে নেবে না দল। একই কথা বলেছেন আমাদের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হিসাবেই মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর এমন কোনও কাজ করলে, মানুষকে ঠকালে দল কোনও ভাবেই কাউকে সমর্থন করবে না।’’
বীরভূমে একচ্ছত্র নেতাগিরি করা অনুব্রত-যুগ শেষ, আসছেন শতাব্দী।

সূত্রের খবর, অনুব্রত মন্ডলের স্থানে বীরভূম জেলার সভাপতি হতে চলেছেন শতাব্দী রায়। এমনিতেই অনুব্রত-শতাব্দী সম্পর্ক বরাবরই ‘অম্ল-মধুর’। একটা সময়ে অনুব্রতের ব্যবহারে ‘বীতশ্রদ্ধ’ হয়ে শতাব্দী বীরভূমের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই শতাব্দীতেই ভরসা রাখতে চলেছে জোড়াফুল।








