প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড হারে ভোটদানের মধ্যেই রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিলেন Mamata Banerjee। তাঁর দাবি, এত বেশি ভোট পড়ার কারণ একটাই—মানুষ এই নির্বাচনকে নিজেদের অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গীর সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর পর এই প্রথম নির্বাচন। সেই প্রেক্ষাপটে বহু নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, মানুষ সচেতনভাবে ভোট দিতে বেরিয়েছেন। তাঁর কথায়, “মানুষ ভেবেছে, এটা তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই। তাই এত ভোট পড়ছে।”
মমতার অভিযোগ, ভবিষ্যতে NRC ও ডিলিমিটেশন নিয়ে কেন্দ্রের পরিকল্পনার আশঙ্কা থেকেই মানুষ আরও বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে বেরিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষ জানে, তৃণমূলকে ভোট না দিলে তাদের অধিকার, সম্পত্তি, ব্যবসা—সবই বিপন্ন হতে পারে।”
দিনভর ভোটের চিত্রও সেই কথাই বলছে—সকাল থেকেই বুথে লম্বা লাইন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকে ভোটের হার। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়ার খবর সামনে এসেছে, যা প্রথম দফায় নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, একই দিনে রাজ্যে প্রচারে এসে Narendra Modi দাবি করেন, বেশি ভোট পড়লে বিজেপিরই লাভ হয়। তাঁর বক্তব্যের পাল্টা তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, “ভোট তো মানুষ দেবে, আগে থেকেই কীভাবে বলে দেওয়া যায় কে জিতবে?”
মমতা আরও অভিযোগ করেন, ভোট-পরবর্তী অশান্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি খবর পাচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে গোলমালের পরিকল্পনা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিরোধী শিবিরের তরফে এখনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সব মিলিয়ে, উচ্চ ভোট শতাংশ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার লড়াই—একদিকে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’র দাবি, অন্যদিকে ‘অধিকার রক্ষার ভোট’—দু’পক্ষই নিজেদের মতো করে ফলাফল আগাম ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছে।



