ভোটের দিনেও কলকাতায় প্রচারের মঞ্চে আক্রমণাত্মক Mamata Banerjee। বৌবাজারের সভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “ভোটের বাক্স খুললেই দেখবেন, বিজেপি জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে।” এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চৌরঙ্গি ও এন্টালি কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন। ব্যবসায়ী মহলের উদ্দেশে তিনি বলেন, বৌবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় মেট্রো প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে তাঁর সরকারই দাঁড়িয়েছিল। কোভিড ও নোটবন্দির সময়ও ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র ঝালমুড়ি মন্তব্যের পাল্টা কটাক্ষও শোনা যায় তাঁর বক্তৃতায়। মমতার কথায়, “আগে বলতেন চা-ওয়ালা, এখন ঝালমুড়ি! ঝালমুড়ির ঝাল আমরা সামলাতে পারি।” এর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বিভাজনের রাজনীতি’র অভিযোগও তোলেন তিনি।
উচ্চ ভোট শতাংশ প্রসঙ্গে মমতার ব্যাখ্যা, মানুষ এই নির্বাচনকে নিজেদের অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে NRC বা ডিলিমিটেশন ইস্যুর আশঙ্কা থেকেই ভোটাররা বেশি করে ভোট দিতে বেরিয়েছেন। “তৃণমূলকে ভোট না দিলে অধিকার, সম্পত্তি—সব ঝুঁকির মুখে পড়বে,”—বলেন তিনি।
মোদীর ‘বেশি ভোট মানেই বিজেপির জয়’ মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, “ভোটের দিনই কীভাবে বলা যায় কে জিতবে? এটা তো মানুষ ঠিক করবে।” একই সঙ্গে ভোট-পরবর্তী অশান্তির সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।


বক্তৃতার শেষ পর্বে বিজেপির বিরুদ্ধে স্বৈরাচার, চাকরি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলে সরব হন মমতা। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, যার দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের দিনেও বৌবাজারের মঞ্চে মমতার আক্রমণাত্মক সুর স্পষ্ট—আর সেই সুরেই উঠে এল ফলাফল ঘিরে আত্মবিশ্বাসী বার্তা।








