পাকিস্তানের বিমান হামলার জেরে আফগানিস্তান–পাক সীমান্তে ফের তীব্র উত্তেজনা। শনিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের পক্তিকা ও নাঙ্গরহার প্রদেশে হামলায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি কাবুলের। এই ঘটনার পর সরাসরি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালিবান প্রশাসন—“এর বদলা নেওয়া হবেই, সময়মতো জবাব দেওয়া হবে।” পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে আফগান শাসকগোষ্ঠী, ফলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
আফগানিস্তানের অভিযোগ, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। পক্তিকার বরমল জেলার একটি মাদ্রাসা লক্ষ্য করে এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাবুল।
তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানি সেনা আফগান ভূখণ্ডে ঢুকে নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতেই পাকিস্তান এই ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে।” তিনি স্পষ্ট জানান, এই হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে তালিবান প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব জরুরি বৈঠকে বসেছে। যদিও সূত্রের দাবি, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বদলে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে কাবুল।
অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলামাবাদের বক্তব্য, সীমান্ত সংলগ্ন জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। পাক সেনার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পক্তিকা, পক্তিয়া, নাঙ্গরহার ও খোস্ত প্রদেশে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের ভেতরে একাধিক জঙ্গি হামলার পরই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় আত্মঘাতী হামলায় পাক সেনার কনভয় নিশানা হয়েছিল, যেখানে এক সেনা আধিকারিক-সহ দু’জন নিহত হন। তার আগে বজৌর এলাকায় হামলায় ১১ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়।
এই ধারাবাহিক ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে। সীমান্তে সেনা তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের।



