আফগান–পাক সীমান্তে তীব্র উত্তেজনার আবহে ছড়াল নতুন দাবি—আফগানিস্তানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে পাকিস্তানের মার্কিন নির্মিত যুদ্ধবিমান এফ-১৬। কাবুলের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োকে সামনে রেখে এই দাবি করা হয়েছে। তবে সেই ভিডিয়োর সত্যতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। ইলন মাস্কের সংস্থা এক্স-এর এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ বলছে, দাবিটি সঠিক নয়; সম্ভবত এটি পুরনো বা ভিন্ন কোনও বিমানের ধ্বংসাবশেষ।
শুক্রবার সকালে আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রকাশ করা ভিডিয়োতে দেখা যায়, একটি বড় যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে জ্বলছে। বিমানের গায়ে পাকিস্তানের পতাকা ও নম্বর চিহ্ন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। কাবুলের বক্তব্য, এটি পাকিস্তান বায়ুসেনার মার্কিন নির্মিত এফ-১৬, যা আফগান বাহিনী গুলি করে নামিয়েছে।


তবে এই দাবি খারিজ করেছে গ্রোক। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভিডিয়োতে দেখা ধ্বংসাবশেষের আকার ও গঠন এফ-১৬-এর সঙ্গে মেলে না। পাকিস্তানও শুক্রবারের সংঘর্ষে কোনও যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করেনি। ফলে ভিডিয়োটি আদৌ সাম্প্রতিক কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভিডিয়োর স্বতন্ত্র যাচাই এখনও হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে আফগান–পাক সীমান্তে গোলাগুলি শুরু হয়। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ দাবি করেন, পাকিস্তানের বিমানহানার প্রত্যাঘাত হিসেবেই এই হামলা। তাঁর কথায়, নাইট ভিশন ও লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পাকিস্তান পাল্টা অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’।
হতাহতের সংখ্যা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে তীব্র মতভেদ। আফগানিস্তানের দাবি, ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। ইসলামাবাদের বক্তব্য, তাদের দুই সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং পাল্টা হামলায় ৩৬ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছেন।


উল্লেখযোগ্য, মার্কিন নির্মিত এফ-১৬ দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অতীতে ভারত–পাক সংঘাতেও এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের দাবি উঠেছিল। ফলে সাম্প্রতিক এই ভিডিয়ো ও দাবি ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
তবে সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনও পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত বলে মানা যাচ্ছে না। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন দক্ষিণ এশিয়ার এই অস্থির পরিস্থিতির দিকে।







