অধীররঞ্জন চৌধুরীর নিরাপত্তা নিয়ে ফের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এতদিন ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেলেও এবার তা কমিয়ে ‘এক্স’ ক্যাটাগরিতে আনা হয়েছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও নিরাপত্তা কমানোর নেপথ্যে সরকারি নিয়মকেই সামনে রাখা হচ্ছে।
লোকসভার সাংসদ থাকাকালীন অধীররঞ্জন চৌধুরী ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তা পেতেন। সেই সময় তাঁর নিরাপত্তায় পাঁচজন সশস্ত্র জওয়ান মোতায়েন থাকতেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাংসদ পদ হারালেও তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল ছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোনও সাংবিধানিক পদে না থেকেও কেন অধীররঞ্জন চৌধুরী ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা পাচ্ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেছিলেন। যদিও সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি অধীররঞ্জন।
পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে তাঁকে ‘এক্স’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হবে। যদিও এই পরিবর্তন নিয়ে সরকারি স্তরে এখনও বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “নিরাপত্তা কমেছে না বেড়েছে, তা আমি জানি না। আগেও কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, এখনও রয়েছেন। আমি কোনওদিন কারও কাছে নিরাপত্তা চাইনি।”
তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নিরাপত্তা বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের কোনও ভূমিকা নেই বলেই দাবি করছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যাতেও তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বর্তমানে অধীররঞ্জন চৌধুরী সাংসদ নন এবং প্রদেশ কংগ্রেসের কোনও সাংগঠনিক পদেও নেই। সেই কারণে প্রচলিত নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাঁর নিরাপত্তা কমানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা যে আরও কিছুদিন চলবে, তা বলাই যায়।






