নজরবন্দি ব্যুরোঃ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বদলে কোভিড বাহিনী পাঠান বাংলায়, মমতার পর মোদীকে চিঠি অধীরের। কোভিডে বাংলাকে সাহায্য করুক কেন্দ্র, সর্বত সাহায্য চেয়েই মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শপথ নিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে বিনামূল্যে টিকাকরণের বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। গত কাল টিকা দাম বৈষম্য এবং সকল রাজ্যকে বিনামূল্যে টিকা প্রদানের জন্য সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গতকালই আসন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অক্সিজেন চেয়ে মোদীকে ‘অতি জরুরি’ পাঠিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ রিপোর্ট না থাকলেও উপসর্গ দেখেই ভর্তি নিতে হবে, করোনায় নয়া নির্দেশিকা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের
আগামি ১৫ দিনে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছিলেন । তার সাথেই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন আগামী কয়েকদিনে রাজ্যে অক্সিজেন লাগবে বেশি পরিমাণে। শুধু তাই নয় চিঠির উপর পেন দিয়ে ‘ভেরি আর্জেন্ট’ ও লিখে দিয়েছিলেন তিনি। তার পরই আজ ফের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্যকে সবরকম সাহায্য করুক কেন্দ্র এই আবেদনে তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। দুটি প্রশ্ন করেছেন আবেদনের পাশাপাশি। এই কোভিডের টিকাকরণের জন্য বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা কোথায় গেলো? এবং দ্বিতিয় পরশ্ন যা নিয়ে এই মুহুর্তে জোর গুঞ্জন সারা দেশ জুরে, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প নিয়ে, সেই বিষয়েও চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন অধীর। জানতে চেয়েছেন এই ভয়াবহ দেশের পরিস্থিত মাঝে দাঁড়িয়ে বিলাসবহুল সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচের প্রয়োজনীয়তা কতটা?
আজ নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার কথা বলেছেন সাংবাদিক বৈঠকে। রাজ্য সরকারকে যাতে এই কঠিন পরিস্থিতে সাহায্য করে কেন্দ্র সেই আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সঙ্গে আজকের সাংবাদিক বৈঠক থেকে অধীর চৌধুরি ভোট পরবর্তী হিংসার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় দল আসার বিষয়েও কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে ‘বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা সম্প্রীতির রাজনীতি চান। সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি চান না। খেলা হয়েছে এবং সেই খেলায় দিদি জিতেছেন, মোদী হেরেছেন।
এই সময় রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, দিল্লি থেকে কোভিড বাহিনী পাঠানো উচিত। রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি-র উচিত রাজ্য সরকারকে সাহায্য করা।’’ সঙ্গে রাজ্যের হিংসা এবং পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান্মন্ত্রীর উদবেগ নিয়ে রাজ্যপাললকে ফোন করে খোঁজ নেওয়ার প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করে বলেছেন, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে এতো ব্যস্ততা থাকলে রাজ্যপালকে ফোন করার বদলে সোজা মুখ্যমন্ত্রীকেই ফোন করতে পারতেন।
প্রসঙ্গত মমতার ‘ভেরি আর্জেন্ট’ চিঠির উত্তর এসেছে তড়িঘড়ি। তবে প্রধানমন্ত্রী নন, তাঁকে পাঠানো চিঠির উত্তর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। জানিয়েছেন এই করোনার সাথে লড়তে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত রকম চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত কেন্দ্র। তিনি জানিয়েছেন শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্র থেকে সরঞ্জাম সব কিছুই কেন্দ্র সরবরাহ করছে বাংলাকে। পশ্চিমবঙ্গকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪০ ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে। আরও ২ লক্ষ ডোজ পাঠানোর জন্য তৈরি।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর বদলে কোভিড বাহিনী পাঠান বাংলায়, মমতার পর মোদীকে চিঠি অধীরের। কোভিডে বাংলাকে সাহায্য করুক কেন্দ্র, উত্তরের চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে ১৮ লক্ষ ৩৮ হাজার এন-৯৫ মাস্ক এবং ৪ লক্ষ ৮৪ হাজার পিপিই কিট, ১ হাজার ২৪৫টি ভেন্টিলেটর এবং সাড়ে ৪৩ লক্ষ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট। এছাড়াও ৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। যার মধ্যে ২টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, বিনামূল্যে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্যের জন্য। যার মধ্যে ৭০০ টি ২১ তারিখের মধ্যে পৌঁছে যাবে। এছাড়া বাকি দাবীও পুরণ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।



