কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের একাংশে রাতারাতি গেরুয়া রং করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব। তাঁরা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে চিঠি লিখে ঘটনার তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেনের অভিযোগ, বিজেপির পরিচয়ে একদল যুবক অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে প্রবেশ করে ভবনের সামনের একটি অংশে গেরুয়া রং করে দেয়। শুধু তাই নয়, সেখানে বিজেপি নেতাদের ছবিও টাঙানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি। বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ আট দশকের ইতিহাস বহনকারী একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের স্বকীয় চরিত্র এভাবে বদলে দেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চন্দন সেনের পাশাপাশি এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিভাস চক্রবর্তী, অরুণ মুখোপাধ্যায়, অশোক মুখোপাধ্যায়, মেঘনাদ ভট্টাচার্য-সহ নাট্যজগতের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের বক্তব্য, অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস কেবল একটি ভবন নয়, বাংলার নাট্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের অংশ। তাই কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের রূপ পরিবর্তনের চেষ্টা হলে তা সাংস্কৃতিক পরিসরের জন্য উদ্বেগের।
চিঠিতে শমীক ভট্টাচার্যের কাছে আবেদন জানিয়ে নাট্যব্যক্তিত্বরা জানতে চেয়েছেন, এই কাজ যদি সত্যিই বিজেপির পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে আগে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা করা হয়নি কেন। একইসঙ্গে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে দলের নীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, “যারা এই কাজ করেছে, তারা ভুল করেছে। অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিচিতি রয়েছে। যেখানে সেখানে গেরুয়া রং করা বিজেপির কর্মসূচির অংশ নয়।” তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা চিহ্নিত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বাস, কয়েকটি রেলস্টেশন এবং সরকারি পরিকাঠামোর রং পরিবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে সরকারি স্কুলের পোশাকের রং পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। সেই আবহেই অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসকে ঘিরে এই নতুন বিতর্ক রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



