‘আমি-তুমি রাজনীতি করলে ফল ভয়ংকর’—এই বার্তায় দলীয় নেতাদের সতর্ক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। ২০২৬-র ভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই দলের অন্দরে ঐক্য ধরে রাখার তাগিদে ৯ হাজারেরও বেশি নেতা-নেত্রীকে ভার্চুয়াল বৈঠকে এককাট্টা হতে বললেন অভিষেক।
সরাসরি বললেন, “আমি-তুমি রাজনীতি চলবে না। যার যার জায়গা থেকে দলকে শক্তিশালী করুন। ব্যক্তিগত স্বার্থের জায়গায় দলকে বসান।” দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ওয়ার্নিং দিচ্ছি, যারা আমি-তুমি রাজনীতি করবে, তাদের পরিণাম ভয়াবহ হবে। তালিকা আমাদের কাছে আছে।”


মমতার সৈনিক হিসেবেই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্বকে সামনে রেখেই চলতে হবে—এটাই বার্তা দেন অভিষেক। বলেন, “দলের উপরে কেউ নয়। আমরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। তিনি যে কাজ দিচ্ছেন, সেটা আমি করব, আপনিও করবেন।”
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ আরও জানান, নেতৃত্বের বিভাজন নয়, বরং সকলকে সঙ্গে নিয়েই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কোনোভাবেই বিভেদ বা ব্যক্তিগত আধিপত্য দলে সহ্য করা হবে না।


বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুতির ডাক
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি যেভাবে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে, তা ঠেকাতে দলীয় নেতাদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন অভিষেক। বলেন, “২০২১-এর পর কতজন বিজেপি নেতা এসেছিল বাংলা দখল করতে? ওদের জামানত বাজেয়াপ্ত করতে হবে।” তাঁর মতে, বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, বাংলার মানুষ তৃণমূলের পাশেই আছে—শুধু দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
‘আমি-তুমি’ শব্দের রাজনীতি মানেই বিভাজন
অভিষেকের বক্তব্যের মূল বার্তা স্পষ্ট—দলীয় ঐক্যই জয়ের চাবিকাঠি। আর সেই ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে যদি ‘আমি-তুমি’ রাজনীতি, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ। তিনি নেতাদের বলেন, “কে কী দায়িত্বে থাকবে, তার রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষায় দল ভাঙার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না।”
নেতাদের জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে অভিষেক আসলে নেতাদের আবার ময়দানে নামার বার্তা দিলেন। নির্দেশ, দলের কর্মসূচি পালন করতে হবে নিয়মিত। মানুষের পাশে থাকতে হবে। দলের ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য জনসংযোগ আরও বাড়াতে হবে।
২০২৬-এর ভোটকে ঘিরে এখন থেকেই কৌশল স্পষ্ট করছে তৃণমূল
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখনও এক বছর বাকি, তবে তৃণমূল এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। বিজেপির মোকাবিলা করতে সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার কৌশল নিচ্ছে দল। আর তার প্রথম ধাপেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।
তৃণমূলে বার্তা স্পষ্ট—ব্যক্তিগত রাজনীতি নয়, মমতার আদর্শেই লড়াই
তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে যে আরও বেশি সংগঠিত হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে চায়, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভার্চুয়াল সভায়। দলের ভেতরে ভাঙন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আর এক মুহূর্তের জন্যও প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেই জানিয়ে দিলেন অভিষেক।







