ফলতার ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ জাহাঙ্গিরকে নিয়ে অভিষেককে নিশানা, বিদ্রোহী কুণাল-সন্দীপন-ঋতব্রত

ফলতার জাহাঙ্গির খান ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কালীঘাটের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সরব কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত ও সন্দীপন।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফলতার প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের দু’দিন আগে সরে দাঁড়ানোর পরেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কালীঘাটে পরিষদীয় দলের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেই সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা— এমনটাই দাবি দলীয় সূত্রের। জাহাঙ্গিরকে কেন এখনও বহিষ্কার করা হয়নি, সেই প্রশ্নও উঠেছে বৈঠকে।

শুক্রবার কালীঘাটে তৃণমূল পরিষদীয় দলের বৈঠকে আচমকাই ‘বিদ্রোহী’ সুর শোনা যায় তিন বিধায়কের গলায়। দলীয় সূত্রের দাবি, ফলতার প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে কেন্দ্র করে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন কুণাল, ঋতব্রত এবং সন্দীপন।

সূত্রের খবর, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বৈঠকে একই গাড়িতে পৌঁছন। বৈঠকের মধ্যেই তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ময়দান ছেড়ে দেওয়া জাহাঙ্গির খানকে কেন এখনও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি।

দলীয় অন্দরের দাবি, জাহাঙ্গিরকে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ বলেও কটাক্ষ করেন ঋতব্রত এবং সন্দীপন। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ার পরও কেন তিনি ভোটের আগেই সরে দাঁড়ালেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বৈঠকে।

বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি দলের এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, জাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তৃণমূলের তরফে সেই বার্তাই প্রকাশ্যে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও থামেননি কুণালরা। সূত্রের দাবি, কুণাল ঘোষ বৈঠকে বলেন, শুধু ঘরে বসে আলোচনা করলে হবে না, রাস্তায় নেমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়কদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন— দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে কোনও ক্ষোভ থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ মেনে না চলেই প্রকাশ্য বৈঠকে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিন বিধায়ক, এমনটাই দাবি ঘনিষ্ঠ মহলের।

প্রসঙ্গত, ফলতায় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত ২৯ এপ্রিল। পরে সেই ভোট বাতিল করে নতুন দিন ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সেই সময় প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, জাহাঙ্গির তাঁকে এলাকায় একটি শ্মশান নির্মাণের কথা বলেছেন। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ফল ঘোষণার পরে যাঁদের ‘হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু’ হবে, তাঁদের ওই শ্মশানে দাহ করা হবে।

দলীয় সূত্রের দাবি, কালীঘাটের বৈঠকে সেই মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কেরা। বৈঠকে নাকি কটাক্ষ করে জানতে চাওয়া হয়, এখন সেই শ্মশান কে তৈরি করবে, আর সেখানে কাদেরই বা দাহ করা হবে।

মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে জাহাঙ্গির খান ঘোষণা করেছিলেন, তিনি আর এই নির্বাচনে লড়ছেন না। তবে সেই সিদ্ধান্তের পিছনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই এখন তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর