বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের কড়া অভিযানের মাঝেই নতুন করে চর্চায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সম্পত্তি। পুরসভার পাঠানো নির্মাণ-সংক্রান্ত নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা-মা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী বুধবার মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পর কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক উচ্ছেদ ও বুলডোজার অভিযান চলছে। এই আবহেই সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় নোটিস পাঠায় কলকাতা পুরসভা।


পুরসভার দাবি, কয়েকটি সম্পত্তিতে অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। নোটিস পাঠানো ঠিকানাগুলির মধ্যে রয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’, ১২১ কালীঘাট রোড, ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোড এবং ২৯-সি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি। এই নোটিস ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই।
বিশেষ করে ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অমিত ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত এবং সমস্ত নিয়ম মেনেই অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই পুরসভার নোটিস বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন তাঁরা।
নোটিস নিয়ে এর আগেই সরব হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমার বাড়ি ভেঙে দিলেও আমি মাথা নত করব না। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাব।”


তবে পরবর্তী সময়ে কিছুটা ভিন্ন সুরও শোনা যায় অভিষেকের বক্তব্যে। ‘শান্তিনিকেতন’ নামে পরিচিত সম্পত্তির একটি অংশ ভাঙার নোটিসের জবাবে তিনি পুরসভার কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেন। ফলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও আইনি লড়াই— দুই পথেই বিষয়টি এগোচ্ছে।
এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের সম্ভাব্য শুনানির দিকে। আদালত যদি নোটিসের উপর স্থগিতাদেশ দেয়, তাহলে আপাতত স্বস্তি পেতে পারে পরিবার। অন্যদিকে পুরসভার পদক্ষেপ বৈধ বলে আদালত মনে করলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক অভিযান আরও গতি পেতে পারে। ফলে এই মামলার রায় শুধু অভিষেকের পরিবারের জন্যই নয়, বেআইনি নির্মাণ নিয়ে রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



