তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে ঘিরে বিতর্কের আবহে প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোনও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত সময় ও আইনি সুযোগ দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে কলকাতা পুরসভার পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আলিপুরে বরো-৯ এলাকার আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার আগে নোটিস জারি এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়া কতটা নিয়ম মেনে হয়েছে, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।


মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান প্রশ্ন ছিল, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল কি না। অভিযোগ উঠেছে, অল্প সময়ের নোটিস দিয়ে দ্রুত ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাঙার নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও নির্মাণ বেআইনি হলেও তা অপসারণের আগে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিস দেওয়া, বক্তব্য পেশের সুযোগ রাখা এবং যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা প্রদান—সবকিছু নিশ্চিত করেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনও পরিবারকে হঠাৎ করে উচ্ছেদের মুখে ফেলে দেওয়া বা যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে বাড়ি ভাঙার মতো পরিস্থিতি এড়াতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


একইসঙ্গে ভবিষ্যতের জন্যও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বেআইনি নির্মাণ তৈরি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে শুরু থেকেই নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। নিয়মিত পরিদর্শন, দ্রুত নোটিস জারি এবং প্রাথমিক স্তরেই হস্তক্ষেপ করলে পরবর্তীতে বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে।
বৈঠকে তিনি আরও জানান, এই নির্দেশ কোনও নির্দিষ্ট এলাকা বা বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নয়। কলকাতার সব ওয়ার্ড ও বরোতেই একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি আইনি ও মানবিক ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
তিলজলা-কাণ্ডের পর প্রশাসনিক মহলে যে নতুন করে আত্মসমীক্ষা শুরু হয়েছে, এই নির্দেশ তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। আগামী দিনে কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ রুখতে আরও পরিকল্পিত এবং আইনসম্মত পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



