ভোটের মুখে পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে আজ মালদহে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চলেছেন Abhishek Banerjee। শুধু সভা নয়—পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে মধ্যাহ্নভোজনই আজকের কর্মসূচির মূল আকর্ষণ। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এই ছবি কী বার্তা দেবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
প্রাক-নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আজ মালদহে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বিশেষ সভা করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। মালদহ ও দুই দিনাজপুর জেলা থেকে আসা প্রায় পাঁচ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক এই সভায় উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সভা শেষে তাঁদের সঙ্গেই দুপুরের খাবার সারবেন অভিষেক—যা ভোটের আগে স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুকে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করেছে All India Trinamool Congress। ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে হেনস্থা, এমনকি জেলে পাঠানোর অভিযোগ তুলে বিজেপি ও কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলিকে নিয়মিত আক্রমণ করছে তৃণমূল। আজকের সভার মঞ্চেও সেই অভিজ্ঞতার কথাই সামনে আনা হবে।
দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিজেপি ও কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে গিয়ে নির্যাতনের শিকার এমন পরিযায়ী শ্রমিকদেরই মঞ্চে রাখা হবে। আলিপুরদুয়ারের সভার মতো মালদহেও চলবে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব। পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেরাই তুলে ধরবেন তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ।
যুব তৃণমূলের মালদহ জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস জানান, “জলঙ্গার সভায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের সমস্যার কথা শুনবেন আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।” একই সুরে দলের জেলা মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু বলেন, “প্রতিটি ব্লক থেকে অন্তত ৩০০ জন করে পরিযায়ী শ্রমিক আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা থেকে আমাদের সেনাপতি কী বার্তা দেন, তা জানতেই সবাই মুখিয়ে।”


উল্লেখ্য, পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে গত কয়েক দিন ধরেই মাঠে নেমেছেন অভিষেক। দু’দিন আগে রামপুরহাটে তিনি দেখা করেন সোনালি খাতুনের সঙ্গে। তার পরদিন দক্ষিণ দিনাজপুরে গিয়ে মহারাষ্ট্রের জেলে বন্দি দুই ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁদের মুক্ত করে আনে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই ধারাবাহিকতাতেই আজ মালদহে বড় কর্মসূচি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে। মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীর কতটা চাপ বাড়াতে পারেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে মালদহে মৌসম নুরের দলত্যাগ, সঙ্গে মিম ও এসএফআই-এর সংগঠনী তৎপরতা—সব মিলিয়ে সমীকরণ সহজ নয়। সেই পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের সামনে রেখে আজকের সভাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







