বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে শুক্রবার থেকেই জেলা সফর শুরু করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরুটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে। তবে এ বার আর পাঁচটা জনসভার মতো নয়—মাঠে তৈরি হচ্ছে কনসার্টের আদলে মঞ্চ, সামনে ‘প্লাস’ আকৃতির র্যাম্প। সেই র্যাম্পে হেঁটেই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ করবেন অভিষেক। রাজনীতির প্রচারে ভিজ্যুয়াল-ইমপ্যাক্ট আর নতুন আঙ্গিক—এই দুইয়ের মিশেলে শুরু হচ্ছে তৃণমূলের বছরের প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি।
বারুইপুরের ফুলতলা সাগরসঙ্ঘের মাঠে মূল মঞ্চের পেছনে থাকছে সুবৃহৎ এলইডি স্ক্রিন—উচ্চতা খুব বেশি নয়, ঠিক কনসার্টে যেমন দেখা যায়। মঞ্চের সামনে তৈরি হচ্ছে র্যাম্প, যেখানে হেঁটে জনতার কাছাকাছি যাবেন অভিষেক। লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগেড সমাবেশে এই ‘র্যাম্প সংস্কৃতি’র সূচনা করেছিলেন তিনিই। সেই সভায় হাঁটু মুড়ে প্রণাম করে বক্তব্য শুরু করা এবং একই দিনে ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের র্যাম্পে হেঁটিয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়া—দুটোই নজর কেড়েছিল। বারুইপুরে প্রার্থী পরিচিতি না থাকলেও, ভোটপ্রচারের এই নতুন আঙ্গিককেই রাজ্যজুড়ে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে তৃণমূল।


সভাস্থলের সাজসজ্জা দেখে বোঝাই যাচ্ছে, আয়োজন ব্যয়সাপেক্ষ। তবে অভিষেক-ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, তাঁর দর্শন আলাদা—সময় বদলালে প্রচারের ভাষাও বদলাতে হবে। সবসময় বেশি খরচ নয়, নতুন ভাবনা আর পরিকল্পনাতেই নজরকাড়া প্রচার সম্ভব। সেই ভাবনাকেই বাস্তবায়িত করছে দল।
জানা গিয়েছে, গোটা জানুয়ারি মাসজুড়ে রাজ্যের সব জেলায় কর্মসূচি করবেন অভিষেক। শনিবার তাঁর সফরসূচিতে রয়েছে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার। তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রায় সব জায়গাতেই বারুইপুরের মতো মঞ্চ প্রস্তুতির পরিকল্পনা রয়েছে। বারুইপুরের সভায় সংলগ্ন বিধানসভাগুলি থেকে জমায়েত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। দুপুর ১২টায় সভা শুরু, দুপুরেই পৌঁছনোর কথা অভিষেকের।
এসআইআর-এর দ্বিতীয় পর্বের মধ্যেই শুরু হচ্ছে এই জেলা সফর। ইতিমধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে বিধানসভা ভোটের স্লোগান ও লোগো প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১-এ ছিল ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’, সাম্প্রতিক লোকসভা ভোটে ‘জনগণের গর্জন, বাংলা-বিরোধীদের বিসর্জন’। এ বারের স্লোগান—‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। বারুইপুরের র্যাম্পেও সেই স্লোগানই চোখে পড়ছে।


২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে উত্তর থেকে দক্ষিণে ‘নবজোয়ার যাত্রা’ করেছিলেন অভিষেক—কোচবিহার থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত। এ বার সেই ধাঁচে যাত্রা নয়। বরং দক্ষিণ থেকে শুরু করে ‘আঁকাবাঁকা’ রুটে জেলা সফর। শনিবার উত্তরবঙ্গ, ৬ জানুয়ারি বীরভূম, ৭ জানুয়ারি উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার। ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রে খবর, প্রতিদিন বিকেলের পর কলকাতায় ফিরবেন তিনি।
দলের লক্ষ্য বারুইপুরের সভায় প্রায় দু’লক্ষ জমায়েত। তবে এ বার শুধু বক্তৃতা নয়—সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথোপকথনও থাকবে সভার মূল আকর্ষণ। সমাজমাধ্যমে সেই মুহূর্তগুলি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতিও সারছে দল। অর্থাৎ, মঞ্চে বক্তৃতা আর র্যাম্পে জনসংযোগ—দুটো মিলিয়েই তৃণমূলের নতুন প্রচার-রূপরেখা।







