দিনভর রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জল্পনার পর অবশেষে সিআইডি দপ্তর ভবানীভবনে হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হন। এখন নজর সই জালিয়াতি মামলার জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কী তথ্য উঠে আসে তার দিকে।
হাই কোর্টের কাছ থেকে ১৪ দিনের রক্ষাকবচ পেলেও তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন অভিষেক। বিকেল সাড়ে চারটার কিছু আগে বিমানবন্দরে নামার পর তাঁর যাত্রাপথ নিয়েও তৈরি হয়েছিল কৌতূহল।
প্রথমে সরাসরি ভবানীভবনে যাচ্ছেন বলে মনে হলেও পরে তিনি কালীঘাটের বাড়িতে যান। সেখানে অল্প সময় কাটিয়ে সেখান থেকে ভবানীভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টার নির্ধারিত সময়সীমার আগেই, প্রায় ৫টা ৪৮ মিনিট নাগাদ সিআইডি দপ্তরে পৌঁছে যান তিনি।
অভিষেকের হাজিরাকে ঘিরে দিনভর ভবানীভবন চত্বরে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মূল গেট থেকে শুরু করে দফতরের বিভিন্ন প্রবেশপথে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। নিরাপত্তা জোরদার করতে RAF-ও মোতায়েন করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সই জালিয়াতি মামলায় এদিনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান রেকর্ড করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বক্তব্য লিখিত আকারে সংরক্ষণ করার জন্য বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে।
সূত্রের দাবি, তদন্তকারীরা প্রশ্ন লিখিতভাবে দেবেন এবং সেই প্রশ্নের উত্তর অভিষেককে নিজের হাতেই লিখতে বলা হবে। পরে সেই নথিতে তাঁর স্বাক্ষরও নেওয়া হবে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিতর্ক এড়াতেই এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সই জালিয়াতি মামলাটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক তদন্তে পরিণত হয়েছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষর সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগ থেকেই এই মামলার সূত্রপাত।
এখন তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী ব্যাখ্যা দেন এবং তাঁর বয়ান থেকে নতুন কোনও সূত্র পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। এই জিজ্ঞাসাবাদ মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।



