কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পরই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কেন্দ্রের ‘সৎমা-সুলভ’ মনোভাব এদিনের বাজেটেও আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অভিষেক সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপির পরাজয়ের পর যদি কেন্দ্র প্রমাণ করতে পারে যে বাংলার একজনও প্রকৃত উপভোক্তা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে তৃণমূল এই অভিযোগই করে আসছে যে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, “যদি বিজেপি সরকার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দেখাতে পারে যে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্পে (MGNREGA) একজনও কাজের কার্ডধারী ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

শুধু মনরেগা নয়, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ তোলেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। তাঁর দাবি, আবাস যোজনায় যেখানে কেন্দ্রের ৬০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দের কথা, সেখানে গত চার বছরে বাংলার একজন মানুষও কেন্দ্রের অংশের টাকা পাননি। অভিষেকের কথায়, “যদি প্রমাণ করতে পারে যে একজনও বাংলার মানুষ এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থ পেয়েছেন, আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতি ছাড়ব।”
গ্রামীণ সড়ক যোজনার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের পরে এই প্রকল্পে বাংলাকে একটি টাকাও দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, “এক পয়সাও নয়—১০ পয়সাও দেওয়া হয়নি।” বিজেপির এই আচরণকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই ব্যাখ্যা করেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েই বিজেপি মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, “বিজেপি ভাবছে বাংলার মানুষকে শিক্ষা দেবে। কিন্তু গণতন্ত্রে বিষয়টা উল্টো।” আসন্ন নির্বাচনে বাংলার মানুষ বিজেপিকে তার জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।


সব মিলিয়ে, বাজেট-পরবর্তী এই প্রতিক্রিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের প্রশ্নটিকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এলেন।









