যে জল্পনা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রিকেটমহলে ঘুরপাক খাচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আর দেখা যাবে না সেই বহু প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ। পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না তারা। তবে বাকি সব ম্যাচ খেলতে কোনও আপত্তি নেই পাকিস্তান দলের। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
রবিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ চলাকালীনই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ইসলামাবাদ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, “পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান।” সরকারের এই সিদ্ধান্ত এখন আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) জানাবে আইসিসি-কে।


বিশ্বকাপের গ্রুপ এ-তে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান ছাড়াও রয়েছে আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। অর্থাৎ, এই তিন দলের বিরুদ্ধে খেললেও একমাত্র ভারতের বিরুদ্ধেই ম্যাচ বয়কট করবে পাকিস্তান। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে যে ম্যাচ ছিল গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, সেটাই শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেল।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তান প্রথমে পুরো প্রতিযোগিতা বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। পরে সেই অবস্থান নরম করে জানানো হয়—পুরো বিশ্বকাপ নয়, শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত দায়িত্ব তারা ছেড়ে দিয়েছিল সরকারের উপর। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ-এর সরকার সেই পথেই হাঁটল।
এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে শাস্তির মুখে পড়তে পারে PCB। পয়েন্ট কাটা যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা বা অন্য কড়া পদক্ষেপও নিতে পারে আইসিসি। কারণ, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভেঙে যাচ্ছে তথাকথিত ‘হাইব্রিড মডেল’ চুক্তি। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ায় ভারতের সব ম্যাচ হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। তখনই আইসিসি জানিয়ে দেয়, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাকিস্তান ভারতে খেলবে না। সেই অনুযায়ী তাদের সব ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত–পাক ম্যাচও হওয়ার কথা ছিল সেখানেই। কিন্তু এখন সেটাও হচ্ছে না।


পুরো বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের উপর নির্বাসনের খাঁড়া নামতে পারত। সেই কারণেই হয়তো তারা সীমিত বয়কটের পথে হেঁটেছে। তবু আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, সূচি অনুযায়ী ম্যাচ না খেললে শাস্তি অনিবার্য হতে পারে।
এখন নজর আইসিসির প্রতিক্রিয়ার দিকে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান জয় শাহ-এর নেতৃত্বাধীন আইসিসি পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে কী ভাবে দেখে এবং কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই ঠিক করবে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ চিত্র।







