ভারত–পাকিস্তান মানেই আলাদা উত্তেজনা। সিনিয়র দলের বিশ্বকাপ বয়কট নাটকের মাঝেই ছোটদের মঞ্চে সেই উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ দেখাল টিম ইন্ডিয়া। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ৫৮ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে নিল জুনিয়র ভারত। একসময় জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা পাকিস্তানের মুখের সামনে থেকেই কার্যত সেই জয় ছিনিয়ে নিল ভারত—আর তাতেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরও একধাপ এগিয়ে গেল নীল জার্সির ছেলেরা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত তোলে ২৫২ রান। ওপেনিংয়ে অ্যারন জর্জ ও বৈভব সূর্যবংশী ৪৭ রানের জুটি গড়ে ভালো শুরু করেন। বৈভব করেন ৩০ রান। কিন্তু দ্রুত তিনটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে যায় ভারত। অ্যারন জর্জ ১৬ রানে ফিরেন, আর আয়ূশ মাত্রে খাতা না খুলেই সাজঘরে ফেরেন।


সেই চাপের মুহূর্তে ম্যাচে ফেরান ভেদান্ত ত্রিবেদী ও বিহান মালহোত্রা। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ৬২ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ভেদান্ত চোয়াল চেপে লড়াই করে করেন দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরি—শেষ পর্যন্ত আউট হন ৬৮ রানে। বিহান মালহোত্রা যোগ করেন ২১ রান। এরপর অভিজ্ঞান কুন্ডু (২১), আর এস অমব্রীশ (২৯), কণিষ্ক চৌহান (৩৫) ও খিলান প্যাটেল (২১) ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ভারতকে ২৫০ পার করান। ৪৯.৫ ওভারে ভারত অলআউট হয় ২৫২ রানে। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন আব্দুল সুভান।
২৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে একটি উইকেট হারালেও পাকিস্তানকে ম্যাচে রাখেন হামজা জাহুর ও উসমান খান। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ৬৫ রানের জুটি আশার আলো দেখায়। জাহুর ৪২ রানে ফিরলেও উসমানের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান ফরহান ইউসাফ। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ৬৩ রানের পার্টনারশিপে একসময় পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১৫১/২—ম্যাচ তখন কার্যত সমানে সমান।
ঠিক সেই জায়গাতেই ম্যাচের রাশ টেনে ধরে ভারতীয় বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে, ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপ। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান অলআউট হয়ে যায় ১৯৪ রানে। ভারত জেতে ৫৮ রানে—আর সেই সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।


সব মিলিয়ে, সিনিয়র পর্যায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ছোটদের মঞ্চে ক্রিকেটের আসল জবাব দিল ভারত—ব্যাটে, বলে আর মেজাজে। ‘চিরশত্রু’কে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখল টিম ইন্ডিয়া।








