বেলডাঙার অশান্তি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তরজা। এবার সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু বিরোধী দলই নয়, নাম না করেই দলের অন্দরের এক নেতাকেও কড়া বার্তা দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, বেলডাঙার উত্তেজনার নেপথ্যে বিজেপির উস্কানি রয়েছে, আর সেই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করেই কিছু ‘গদ্দার’ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে।
এক সভায় অভিষেক বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল দু’দিন পরে বেলডাঙায় সভা করতে। কিন্তু আমি না গেলে গদ্দাররা অক্সিজেন পেত।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। স্পষ্টভাবে নাম না করলেও, এই আক্রমণের নিশানায় মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বেলডাঙার অশান্তি প্রসঙ্গে অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “বিজেপি রাজ্যে অশান্তি তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়। কিন্তু তৃণমূল সেই চক্রান্ত সফল হতে দেবে না।” একই সঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের সংযম বজায় রাখার বার্তাও দেন।
এর পাশাপাশি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR ইস্যুতেও কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, “সারা দেশে এক নিয়ম, কিন্তু বাংলার জন্য আলাদা নিয়ম চালু করা হচ্ছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলা এই বৈষম্য মেনে নেবে না। “বাংলা মাথা নত করবে না, বশ্যতা স্বীকার করবে না”—এই হুঙ্কারেই নিজের বক্তব্য শেষ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
সব মিলিয়ে, বেলডাঙার অশান্তি ও SIR ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত এবং তৃণমূল–বিজেপি রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হচ্ছে, তা অভিষেকের এই বক্তব্যেই স্পষ্ট।











