দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় তদন্তে নেমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবারের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে তপন মাইতি ও আকাশ নামে দু’জন রয়েছেন, যাদের ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
শনিবার নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ও ডিম ছোড়া হয়। পাশাপাশি শারীরিক হেনস্থার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।


পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত অভিষেককে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। এরপর তাঁকে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানানো হয়, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই।
পরবর্তীতে মিন্টো পার্ক এলাকার আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানকার চিকিৎসকরাও একই মত দেন। এই পুরো সময় জুড়ে অভিষেকের পাশে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই হামলার ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে পরোক্ষ অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই এবং দল এই ধরনের ঘটনার সমর্থন করে না।


শনিবার হাসপাতালে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। সোনারপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর সকলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



