২০২৫ সালের বাজেট পেশ হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিহারের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাজেট পেশ করা হয়েছে, কিন্তু বাংলাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাংলার জন্য কিছুই বরাদ্দ করা হয়নি এবং বাংলার বিজেপি সাংসদরা চুপ রয়েছেন, তাঁদের কোনও প্রতিবাদও দেখা যাচ্ছে না।
বিহারের নির্বাচনের প্রভাব:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “বিহারে নির্বাচন রয়েছে, তাই সেখানে বাজেট পেশ করা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, যখন বাংলা থেকে ১৮ জন সাংসদ দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল, তখনও বাংলার জন্য কিছুই বরাদ্দ হয়নি। এবারও বিজেপি ১২ জন সাংসদ নির্বাচিত করে কিছু করতে পারেনি। এরই মধ্যে, বিহারের জন্য বিভিন্ন সুবিধার ঘোষণা করা হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত বলে অভিষেক দাবি করেন। তিনি বলেন, “এরা তো ভোটের জন্য বাজেট পেশ করছে, সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করছে না।”


বাংলার বঞ্চনার অভিযোগ:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায়, “বাংলা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। এখনও বাংলাকে কিছু দেওয়া হয়নি।” তিনি বলেন, বাংলা সরকারের জন্য বাজেটে কোনও বিশেষ সুবিধা বা প্রকল্প ঘোষণা করা হয়নি, যা বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল। তাঁর মতে, দিল্লিতে বাংলা থেকে নির্বাচিত সাংসদরা তাদের রাজ্যের জন্য কোনো প্রতিবাদ করেন না, যা বাংলার প্রতি অবিচার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিজেপির পাল্টা জবাব:
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, যিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও, তাঁর পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। তিনি বলেন, এবারের বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য, এবং এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনারা ঘর দিচ্ছেন না, অথচ আশা করছেন বিজেপি প্রকল্প দেবে?”
২০২৫ সালের বাজেটে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চলছে। বিশেষ করে, বিহারের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে সেখানে বরাদ্দের পরিমাণ বেশি হলেও বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। এখন সময় আসবে যে, আগামী দিনে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে এই রাজনৈতিক বিতর্ক কিভাবে অগ্রসর হয়, তা দেখার বিষয়।









