আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ (RG Kar Medical College) কাণ্ডের পর ‘থ্রেট কালচার’ বিতর্কে উঠে আসা চিকিৎসক অভীক দে-র স্নাতকোত্তরে ভর্তি নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সার্ভিস কোটায় তিনি নিয়ম মেনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জারি করা আদেশনামায় এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। গত ৫ অগস্ট স্বাস্থ্য দফতরের ভিজিল্যান্স শাখার দেওয়া নির্দেশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দিতে হবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহার কাছে।
চার সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থ প্রতীম প্রধান। কমিটিতে রয়েছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোমনাথ দাস এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যক্ষ কৌশিক মিত্র।
তদন্তের মূল বিষয়, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অভীক দে কীভাবে সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই ভর্তি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিয়মকানুন যথাযথ ভাবে মানা হয়েছিল কি না, মূলত সেটিই খতিয়ে দেখবে কমিটি।
আরজি কর-কাণ্ডের পর থেকেই চিকিৎসক অভীক দে-র নাম রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাঁর সঙ্গে একই বিতর্কে চিকিৎসক বিরুপাক্ষ বিশ্বাসের নামও উঠে আসে। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অভীক দে-কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
এরপর চলতি বছরের মে মাসে অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। সেই তদন্তের আওতায় আনা হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে তাঁর আরএমও হিসেবে কাজ করার সময় সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তির বিষয়টিও। অর্থাৎ, শুধু ‘থ্রেট কালচার’ সংক্রান্ত অভিযোগ নয়, তাঁর PG ভর্তি প্রক্রিয়াও প্রশাসনিক তদন্তের অংশ হয়ে ওঠে।
বিভাগীয় তদন্ত বন্ধ করার আবেদন নিয়ে পরে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এর দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভীক দে। গত বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ব্যক্তিগত অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং সার্ভিস রুল মেনে বিভাগীয় তদন্ত—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
তাই এই পর্যায়ে বিভাগীয় তদন্তে আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলেই জানায় হাই কোর্ট। আদালতের সেই সিদ্ধান্তের পরই অভীক দে-র বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত আরও নির্দিষ্ট ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করল স্বাস্থ্য দফতর।
এখন তদন্ত কমিটির হাতে রয়েছে ১০ দিনের সময়সীমা। এই সময়ের মধ্যে অভীক দে-র স্নাতকোত্তরে ভর্তি সংক্রান্ত নথি, সার্ভিস কোটার যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে ভর্তি হয়েছিল কি না, সেগুলি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেওয়ার কথা। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।



