ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক দল তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন একা লড়বে তাঁর দল। এবার সেই পথে হেঁটেই একই সিদ্ধান্ত আম আদমি পার্টির। দলের তরফে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পাঞ্জাবে একা লড়াই করবে আপ (AAP will contest alone)। এরফলে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একে একে জোট সদস্যরা নিজ নিজ রাজ্যে একলা চলো নীতি ধারণ করেছে, সেক্ষেত্রে লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্বই এখন প্রশ্নের মুখে।

আরও পড়ুন: লোকসভায় তৃণমূলের লক্ষ্য মহিলা ভোট, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা মমতার
বুধবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান (Bhagwant Mann) রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে ভোটে নামার কথা খারিজ করে দেন। এদিন তিনি বলেন, ‘পাঞ্জাবের ১৩ টি লোকসভা কেন্দ্রে আপের ৪০ জন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের আগে আমরা সমীক্ষা করব। আপের এই বার্তার পর ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিন ধরেই দ্বন্দ্বের আবহ বিরাজমান। এই সময়ে কেজরিওয়ালের দলও এক রাজ্যে একা লড়াই করার ঘোষণা করল। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে শাসক দলের ভুমিকা নেয় আপ।

ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Bloc) আসন রফা নিয়ে কংগ্রেস-তৃণমূলের অন্দরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সূত্রে খবর, বাংলায় হাত শিবিরকে কেবল দুটি আসন ছাড়তে রাজি তৃণমূল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে খুশি নয় কংগ্রেসের (Congress) বঙ্গ নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এনিয়ে সরব হয়েছেন। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দিন প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ওরা আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সেইদিন থেকে আমরা একা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। সর্বভারতীয় স্তরে কী করব ভোটের পরে ভাবব।’
তৃণমূলের পর আপ, মমতার পথে হেঁটেই ‘একা’ লড়াইয়ের নামছেন কেজরিওয়াল

রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ (Bharat Jodo Nyay Yatra) উত্তরবঙ্গের উপর দিয়ে যাবে। সেইসময়েই উত্তরবঙ্গ সফরে থাকার কথা তৃণমূল সুপ্রিমোর। এনিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘আমাকে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। জোটের শরিক হিসেবে সৌজন্যের খাতিরেও তো জানাতে পারত, দিদি আপনার রাজ্যে যাচ্ছি। না জানায়নি।’ যদিও মমতার ‘একলা চলো’ নীতির পাল্টা কংগ্রেস জানায়, মমতাকে ছাড়া ইন্ডিয়া জোটের কথা ভাবা যায় না। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘ইন্ডিয়া জোটের দুই স্তম্ভ কংগ্রেস এবং তৃণমূল।’



