Aamir Khan Third Marriage Controversy: বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিশেষ বিবাহ আইন (Special Marriage Act)-এর অধীনে আইনি বিয়ে করেছেন অভিনেতা। এই বিয়ের পর একদিকে যেমন কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে, তেমনই এবার এক ধর্মীয় নেতার মন্তব্য ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মুসলিম পার্সোনাল দারুল ইফতার শাহির প্রধান মুফতি মৌলানা ইব্রাহিম হোসেন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন, যদি কোনও অমুসলিম নারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করে কোনও মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করেন, তাহলে শরিয়া আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সেই বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হয় না। তাঁর মতে, এই বিষয়ে আমির খানের আত্মসমালোচনা করা উচিত।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই মন্তব্য একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতামত, এটি ভারতের আইনগত অবস্থান নয়। ভারতে Special Marriage Act, 1954-এর অধীনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ধর্মান্তর ছাড়াই আইনিভাবে বিবাহ করতে পারেন।
এদিকে, আমির খানের বিয়েকে ঘিরে বজরং দল-সহ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও প্রতিবাদে নেমেছে। বিহারের ফরবেসগঞ্জে অভিনেতার কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তোলে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ বা আদালতের পর্যবেক্ষণ সামনে আসেনি।
আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন বহুবার আলোচনায় এসেছে। ১৯৮৬ সালে তিনি রীনা দত্তকে বিয়ে করেন। ২০০২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে পরিচালক কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। ২০২১ সালে তাঁদেরও বিচ্ছেদ হয়। সম্প্রতি তিনি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে যেমন নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তেমনই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলেও বিতর্ক চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত আমির খান বা তাঁর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এই বিতর্ক এবং ধর্মীয় নেতার মন্তব্য নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের আইনসম্মতভাবে বিবাহের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরতে পারে। এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।



