তৃতীয়বার বিয়ের পর ফের বিতর্কের কেন্দ্রে আমির খান। সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে সম্পন্ন করার পর অভিনেতাকে ঘিরে সরব হয়েছে বজরং দল। বিহারের ফোরবেসগঞ্জে সংগঠনের বিক্ষোভে আমির খানের বিরুদ্ধে ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগ তোলা হয়। একইসঙ্গে অভিনেতার কুশপুতুল দাহ এবং বিতর্কিত স্লোগানও দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল— সর্বত্র শুরু হয়েছে আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের ফোরবেসগঞ্জে বজরং দলের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিনেতা আমির খানের কুশপুতুল পোড়ানোর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সংগঠনের স্থানীয় নেতা মনোজ সোনি অভিযোগ করেন, আমির খান বারবার হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীদেরই বিয়ে করছেন এবং এর পিছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি এই ঘটনাকে ‘লাভ জেহাদ’-এর সঙ্গে যুক্ত করে অভিনেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি আদালত ও সরকারের কাছেও বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন করেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন মনোজ সোনি আরও দাবি করেন, যদি এই ধরনের ঘটনা বন্ধ না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে তাঁদের সংগঠন। তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আমির খান ১৯৮৬ সালে প্রথম রীনা দত্তকে বিয়ে করেন। ২০০২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে তিনি পরিচালক কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। ২০২১ সালে সেই সম্পর্কেরও ইতি ঘটে। সম্প্রতি মুম্বইয়ে পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আইনি বিয়ে করেছেন অভিনেতা।
আমির খানের ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে অতীতেও নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁর সাম্প্রতিক বিয়ের পর বজরং দলের এই বিক্ষোভ এবং ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আমির খান বা তাঁর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।






