সাম্প্রতিক বিয়ে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের মুখে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। তাঁকে ঘিরে ওঠা ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগ এবং এক ধর্মীয় নেতার জারি করা ‘ফতোয়া’-র প্রতিক্রিয়ায় অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের আন্তঃধর্মীয় বিবাহের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং তাঁর কোনও স্ত্রীরই ধর্মান্তর হয়নি। সবকটি বিয়েই হয়েছে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী।
সম্প্রতি বজরং দল-সহ কয়েকটি সংগঠন এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেন, আমির খান বারবার হিন্দু নারীদের বিয়ে করেছেন। এই প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে ‘লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ বলেও কটাক্ষ করা হয়। অন্যদিকে, মুসলিম পার্সোনাল দারুল ইফতার শাহীর প্রধান মুফতি মৌলানা ইব্রাহিম হোসেন অভিনেতার বিয়ে নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ‘ফতোয়া’ জারি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি এই ধরনের বিয়ে ইসলাম ও শরিয়া সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আমির খান। অভিনেতা বলেন, “আমাদের পরিবার বরাবরই আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে সম্মান করেছে। আমার দুই বোন হিন্দু পরিবারে বিয়ে করেছেন। আমার মেয়ে ইরার স্বামীও হিন্দু। আমার এক তুতো ভাইয়ের স্ত্রী খ্রিস্টান।”
ধর্মান্তরের অভিযোগও সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আমিরের কথায়, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রীনা, কিরণ কিংবা গৌরী—কেউই বিয়ের পরে ধর্ম পরিবর্তন করেননি। কারণ আমাদের প্রতিটি বিয়ে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী হয়েছে। ফলে ধর্মান্তরের প্রশ্নই ওঠে না।”
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “গৌরীও হিন্দু নন, তিনি খ্রিস্টান। সময় যত এগোচ্ছে, জীবন যেন ততই বেশি হাস্যকর হয়ে উঠছে।” অভিনেতার এই মন্তব্যকে চলমান বিতর্কের প্রতি তাঁর প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখছে বিনোদন মহল।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে আমির খান প্রথম বিয়ে করেন রীনা দত্তকে। ২০০২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে পরিচালক কিরণ রাও-কে বিয়ে করেন তিনি। ২০২১ সালে সেই সম্পর্কও বিচ্ছেদে শেষ হয়। চলতি বছরের ৫ জুলাই ২০২৬, মুম্বইয়ের বাসভবনে গৌরী স্প্র্যাট-এর সঙ্গে আইনি বিয়ে সারেন অভিনেতা।
আমির খানের এই বক্তব্যের পরও বিতর্ক থামবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে অভিনেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও বৈবাহিক সম্পর্ক আইনসম্মত এবং ধর্মান্তরের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।



